x
d o c t o r s 2 4
13 Nov

সাইনাসাইটিস বা সাইনাস সংক্রমণ—বাংলাদেশে এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু উপেক্ষিত শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা। সাধারণত ঠান্ডা লাগা, ধুলাবালি বা অ্যালার্জির কারণে সাইনাসের অভ্যন্তরে সংক্রমণ ও প্রদাহ হয়। অনেকে মনে করেন সাইনাস হঠাৎ করেই হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, রোগটি শুরু হওয়ার অন্তত ২-৩ দিন আগে শরীর বেশ কয়েকটি সংকেত দেয়, যা চিনে নিতে পারলে সংক্রমণ এড়ানো বা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ১৫% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জীবনে অন্তত একবার সাইনাসাইটিসে আক্রান্ত হন। তবে রোগের আগাম লক্ষণ চেনা গেলে এ অবস্থা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক—সাইনাসাইটিস শুরুর ৩ দিন আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৬টি সতর্ক সংকেত।

১. নাক বন্ধ ও ঘন মিউকাস (শ্লেষ্মা) নিঃসরণ

সাইনাসের প্রদাহ শুরু হলে নাকের অভ্যন্তরে শ্লেষ্মা জমে যায়। প্রথম দিকে এটি স্বচ্ছ থাকে, কিন্তু ধীরে ধীরে ঘন ও হলুদ-সবুজ রঙ ধারণ করে।

অনেকেই একে সাধারণ সর্দি ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি আসলে সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ।
বিশেষত, যদি এই অবস্থার সঙ্গে গলা ব্যথা বা কানে চাপ অনুভূত হয়—তবে তা সাইনাসাইটিসের পূর্বাভাস হতে পারে।

২. মুখ বা চোখের চারপাশে চাপ ও ব্যথা

সাইনাস গহ্বরগুলো কপাল, নাকের দুই পাশে ও চোখের নিচে অবস্থিত। সংক্রমণের শুরুর দিকে এ অঞ্চলগুলোতে চাপ, টান টান ব্যথা বা ভারীভাব অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সেই সময় যখন সাইনাসে তরল জমতে শুরু করে।
এই ব্যথা ঝুঁকে পড়লে বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বেড়ে যায়—যা সাধারণ সর্দি-কাশির থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য।

৩. মাথাব্যথা ও মাথা ভার লাগা

সাইনাসে চাপ তৈরি হলে মাথার সামনের অংশে ও কপালে নিয়মিত মাথাব্যথা দেখা দেয়।
অনেকে এটিকে মাইগ্রেন ভেবে ভুল করেন। তবে সাইনাসের মাথাব্যথা সাধারণত মাথা নাড়ালে বা ঝুঁকলে বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাইনাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৭০% এরই মাথাব্যথা সংক্রমণের আগের কয়েক দিনে শুরু হয়।

৪. গলা ব্যথা ও কণ্ঠ ভারী হয়ে যাওয়া

সাইনাস থেকে নেমে আসা মিউকাস (post-nasal drip) গলায় জমে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা তৈরি করে।
অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে কণ্ঠ ভারী বা কর্কশ শুনতে পান।

এটি সাধারণ ঠান্ডা নয়, বরং সাইনাসের প্রদাহ গলার দিকে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম লক্ষণ।
চিকিৎসকরা বলেন, গলা চুলকানো ও কণ্ঠস্বর পরিবর্তন সংক্রমণ ছড়ানোর সূচনা নির্দেশ করে।

৫. ঘ্রাণশক্তি ও স্বাদ কমে যাওয়া

সাইনাসের প্রদাহ নাকের ঘ্রাণগ্রাহী স্নায়ুকে প্রভাবিত করে, ফলে ধীরে ধীরে ঘ্রাণ ও স্বাদ অনুভূতি কমে যায়।
যদি হঠাৎ করে প্রিয় খাবারের গন্ধ না পান, বা কিছু স্বাদহীন মনে হয়, সেটিও আসন্ন সাইনাসাইটিসের সতর্ক সংকেত।

এটি সাধারণত সংক্রমণ শুরু হওয়ার ১–৩ দিন আগে দেখা দেয়।

৬. হালকা জ্বর ও ক্লান্তি অনুভব

সাইনাস সংক্রমণ শুরু হলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়, ফলে শরীরে হালকা জ্বর, দুর্বলতা বা অলসতা দেখা দেয়।
বিশেষত যারা ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকেন বা ধুলাবালিতে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ

  • লক্ষণগুলো তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা ঘন নাকবন্ধভাব, মাথাব্যথা ও জ্বর একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন, নাক পরিষ্কার রাখুন ও বাষ্প গ্রহণ করুন—এতে সাইনাসের চাপ কমে।
  • ধুলো, ধোঁয়া, এবং ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে থাকুন।
  • প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক বা ন্যাসাল স্প্রে চিকিৎসকের নির্দেশে ব্যবহার করুন।

Leave A Comment