x
d o c t o r s 2 4
15 Nov

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ কেবল বার্ধক্যের একটি সাধারণ লক্ষণ নয়—এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার এক ধীরে ধীরে অবনতি, যা চিন্তা, আচরণ এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করে। গবেষকরা বলছেন, এই জটিল রোগের লক্ষণ হঠাৎ করে দেখা দেয় না; বরং অনেক সময় এর উপসর্গগুলো এক বছর বা তারও আগে থেকেই শরীরে ইঙ্গিত দেয়। সেই ইঙ্গিতগুলো চিনে নেওয়া গেলে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ অনেকটা সহজ হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষ বর্তমানে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত, এবং প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি নতুন রোগী যোগ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুরুর দিকেই লক্ষণগুলো শনাক্ত করা গেলে রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব।

নিচে ডিমেনশিয়ার ১ বছর আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—

১. স্মৃতিশক্তির সূক্ষ্ম দুর্বলতা

সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ হলো স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি হ্রাস। ব্যক্তি সাম্প্রতিক ঘটনা বা কথোপকথন ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু পুরনো ঘটনা পরিষ্কার মনে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আজ সকালে কী খেয়েছেন বা কোন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছেন তা মনে রাখতে না পারা ডিমেনশিয়ার সূচনা হতে পারে।

২. ভাষাগত বিভ্রান্তি বা কথা বলতে কষ্ট

ডিমেনশিয়ার এক বছর আগেই অনেকের মধ্যে দেখা যায়—কথার মাঝখানে শব্দ ভুলে যাওয়া, বা সাধারণ বাক্য গঠন করতে অসুবিধা। এমনকি পরিচিত জিনিসের নাম মনে করতে না পারাও এর ইঙ্গিত হতে পারে। নিউরোলজিস্টরা বলেন, এটি মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ অংশের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ।

৩. সিদ্ধান্ত নেওয়া ও বিচারবুদ্ধিতে দুর্বলতা

ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক ধাপে মানুষ ছোটখাটো সিদ্ধান্তেও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যেমন—টাকা-পয়সা ব্যবস্থাপনায় ভুল, পোশাক বাছাইয়ে অসামঞ্জস্য, কিংবা বিপদ বুঝতে না পারা। এক বছর আগে থেকেই এই পরিবর্তনগুলো ধীরে ধীরে আচরণে প্রকাশ পায়।

৪. দিকভ্রান্তি ও স্থান-সময় ভুলে যাওয়া

রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তি হঠাৎ পরিচিত রাস্তা ভুলে যেতে পারেন বা সময়ের ধারণা হারিয়ে ফেলতে পারেন। সকালে নাশতা খাওয়ার সময়ও তিনি ভাবতে পারেন এটি রাতের খাবারের সময়। এই বিভ্রান্তি ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের স্থান-কাল উপলব্ধির দুর্বলতায় রূপ নেয়।

৫. মেজাজ ও ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন

ডিমেনশিয়ার আগে অনেকের আচরণে লক্ষ্য করা যায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন—অতিরিক্ত রাগ, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা সামাজিকতা হারিয়ে ফেলা। পূর্বে যিনি খুব মিশুক ছিলেন, হঠাৎ তিনি চুপচাপ হয়ে পড়েন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবর্তনগুলো মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবের ক্রিয়াকলাপ কমে যাওয়ার ফল।

৬. দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ হারানো

যারা আগে বই পড়তে, রান্না করতে বা বাইরে যেতে পছন্দ করতেন, হঠাৎ তারা এসব কাজে আগ্রহ হারাতে শুরু করেন। এই “অ্যাপাথি” বা উদাসীনতা ডিমেনশিয়ার খুব প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি কেবল মানসিক ক্লান্তি নয়—বরং স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়াবিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মানসিক ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার, এবং নিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস—এসব অভ্যাস ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমাতে পারে।

Leave A Comment