বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, ৭০% রোগী ধরা পড়ছে তৃতীয় বা চতুর্থ স্টেজে। অথচ ২০২৪-২০২৫ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণগুলো শরীর অনেক আগেই দিতে শুরু করে — শুধু আমরা সেগুলোকে “সাধারণ” ভেবে উপেক্ষা করি। নিচে সাম্প্রতিক গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ডেটার ভিত্তিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭টি সতর্কতা সংকেত দেওয়া হলো।
১. কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
৩-৬ মাসে শরীরের ওজনের ১০% বা তার বেশি কমে গেলে (যেমন ৭০ কেজি থেকে ৬৩ কেজির নিচে) এবং ডায়েট বা ব্যায়াম না করা সত্ত্বেও — তা ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয় বা লিম্ফোমার প্রথম লক্ষণ হতে পারে (Lancet Oncology ২০২৪)।
২. দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া
৩ সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে বা গলা ভাঙা ভাব চলতে থাকলে ফুসফুস বা গলার ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ আরও গুরুতর। ২০২৫ সালের একটি ব্রিটিশ গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে এই লক্ষণ থাকলে ১৫% ক্ষেত্রে প্রথম বছরের মধ্যেই ক্যান্সার ধরা পড়েছে।
৩. মল-মূত্রে রক্ত বা রং বদল
কালো মল, মলে রক্ত, মূত্রে রক্ত বা মূত্রের রং গাঢ় লাল-বাদামী হলে কোলন, মূত্রথলি বা কিডনি ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে। বাংলাদেশে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার দ্রুত বাড়ছে, এবং এই লক্ষণটি সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়।
৪. ত্বকে নতুন দাগ বা পুরোনো দাগের আকার-রং বদল
ত্বকে নতুন কালো বা বাদামী দাগ যার সীমানা অনিয়মিত, রং মিশ্রিত, ব্যাস ৬ মিলিমিটারের বেশি — এগুলো মেলানোমার লক্ষণ। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ত্বকের ক্যান্সার ৪০% বেড়েছে, কারণ সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাব ও সচেতনতার অভাব।
৫. গিলতে বা হজমে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা
খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, বুকে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া ২-৩ সপ্তাহের বেশি থাকলে খাদ্যনালী বা পাকস্থলীর ক্যান্সার হতে পারে। বাংলাদেশে এই ধরনের ক্যান্সার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
৬. স্তনে বা অন্যত্র অস্বাভাবিক চাকা বা ফোলা
স্তনে, ঘাড়ে, বগলে বা কুঁচকিতে ব্যথাহীন চাকা অনুভূব হলে দেরি না করে চিকিৎসক দেখানো জরুরি। বাংলাদেশে প্রতি ৮ জন মহিলার মধ্যে ১ জন জীবনে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
৭. অবিরাম ক্লান্তি ও দুর্বলতা
যে ক্লান্তি ঘুম বা বিশ্রামে সারে না, সেটি লিউকেমিয়া বা অন্যান্য রক্তের ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণ হতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৬% রোগী এই লক্ষণটি প্রথম অনুভব করেছিলেন।
ক্যান্সারের ৪০-৫০% ক্ষেত্রে প্রথম বা দ্বিতীয় স্টেজে ধরা পড়লে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। এই ৭টি লক্ষণের যেকোনো একটি ৩ সপ্তাহের বেশি থাকলে অবহেলা নয় — তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রতি বছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মহিলাদের ম্যামোগ্রাম (৪০ বছর পর), পুরুষদের PSA টেস্ট (৫০ বছর পর) ও কোলোনোস্কোপি করালে অনেক ক্যান্সার আগেভাগেই ধরা পড়বে।
