x
d o c t o r s 2 4
04 Dec

ভার্টিগো হঠাৎ মাথা ঘোরা বা চারপাশ ঘুরে যাওয়ার অনুভূতি— সাধারণত ভেস্টিবুলার সিস্টেম, কানের ভেতরের ব্যালান্স-অঙ্গ বা স্নায়ুর সমস্যার কারণে হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই অবস্থা হঠাৎ করে দেখা দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভার্টিগো শুরু হওয়ার ৩–৭ দিন আগেই শরীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশিরভাগ মানুষ এগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না।

নিচে ভার্টিগো হওয়ার ১ সপ্তাহ আগে যে ৩টি লক্ষণ ধরা পড়ে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

১) কানের ভেতরে চাপ, ‘পূর্ণতা অনুভূতি’ বা হালকা বাজনা— ভেস্টিবুলার অস্থিরতার প্রথম ধাপ

ভার্টিগোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আগাম লক্ষণগুলোর একটি হলো কানের ভেতরে চাপ অনুভব হওয়া, যেন পানি ঢুকেছে বা কান ফুলে আছে। কখনও হালকা ‘বাজনা’ বা টিনিটাস ধরণের শব্দও শোনা যায়।

এই পরিবর্তনের কারণ—

  • কানের ভেতরের এন্ডোলিম্ফিক ফ্লুইড অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে
  • ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণকারী হেয়ার-সেলগুলো চাপের কারণে ঠিকমতো সংকেত পাঠাতে পারে না
  • মেনিয়ার’স ডিজিজ বা ভেস্টিবুলার নিউরাইটিসের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এই কানের চাপ ৩ দিন থেকে ১ সপ্তাহ আগেই শুরু হয় এবং এরপরই আকস্মিক মাথা ঘোরা দেখা দেয়।

২) অস্বাভাবিক চোখের ক্লান্তি বা ‘ফোকাস করতে সমস্যা’ — ভিজ্যুয়াল-ভেস্টিবুলার মিসম্যাচ

ভার্টিগোর আগের সপ্তাহে অনেকেই চোখে অদ্ভুত ধরনের অস্বস্তি অনুভব করেন। যেমন—

  • চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া
  • সামান্য নড়াচড়ায় জিনিসপত্র দুলে ওঠার মতো মনে হওয়া
  • ফোকাস বদলাতে কষ্ট হওয়া (যেমন, মোবাইল থেকে দূরের দিকে তাকালে ঝাপসা লাগা)

কেন হয়?
শরীরের ব্যালান্স সিস্টেম দুটি প্রধান উৎস থেকে সংকেত পায়—
চোখ ও কানের ভেস্টিবুলার অঙ্গ।
যখন এই দুই উৎসের সংকেত একে অপরের সঙ্গে মিলছে না, তখন মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং চোখে অধিক চাপ পড়ে। এটিকে বলা হয় Visual-Vestibular Mismatch, যা ভার্টিগো শুরুর অন্যতম আগাম সিগনাল।

অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা এই সমস্যাকে সাধারণ চোখের ক্লান্তি ভেবে অবহেলা করেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি হতে পারে ভেস্টিবুলার সিস্টেমের অস্থিতিশীলতা।

৩) মাথা ঘোরার ‘মিনি-স্পেল’— কয়েক সেকেন্ডের অস্থিরতা বা হালকা দুলুনির অনুভূতি

অনেকের ক্ষেত্রে ভার্টিগো শুরু হওয়ার ১ সপ্তাহ আগে ছোট ছোট স্পেল দেখা যায়—

  • ২–৫ সেকেন্ডের হালকা মাথা দুলে যাওয়া
  • হঠাৎ মনে হওয়া চারপাশ কাঁপছে
  • মাথা ঘোরার ট্রিগার: উঠে দাঁড়ানো, মাথা ঘোরানো বা নিচে তাকানো

এগুলোকে বলা হয় Pre-Vertigo Episodes।
এগুলো সাধারণত খুব ছোট হওয়ায় রোগীরা সিরিয়াসলি নেন না, কিন্তু এগুলোই আসন্ন বড় ভার্টিগো অ্যাটাকের প্রাথমিক সতর্কবার্তা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিনি-স্পেলের সময় ভেস্টিবুলার স্নায়ুতে সাময়িক ইনফ্ল্যামেশন বা ব্যালান্স-ফ্লুইডের মাইক্রো-ডিস্টার্বেন্স ঘটে, যা ৫–৭ দিনের মধ্যে পূর্ণমাত্রার ভার্টিগোতে রূপ নিতে পারে।

ভার্টিগো আসার আগাম কারণগুলো কী হতে পারে?

  • ভেস্টিবুলার নিউরাইটিস (স্নায়ুতে ইনফ্ল্যামেশন)
  • মেনিয়ার’স ডিজিজ
  • ইনার ইয়ার ফ্লুইডের ভারসাম্যহীনতা
  • হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া
  • ঘুমের অভাব ও মানসিক স্ট্রেস
  • মাইগ্রেন-সম্পর্কিত ভেস্টিবুলার সমস্যা

লক্ষণ দেখলে কী করবেন?

  • মাথা ও ঘাড়ের আকস্মিক নড়াচড়া কমান
  • বেশি পানি পান করুন— ডিহাইড্রেশন ভেস্টিবুলার সমস্যা বাড়ায়
  • লবণ কম খান, বিশেষত যদি কানে চাপ অনুভব হয়
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
  • চোখকে বিশ্রাম দিন, স্ক্রিন টাইম কমান
  • উপসর্গ ২৪–৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকলে ইএনটি বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন

ভার্টিগো সাধারণত হঠাৎ আসে না— তার আগের সপ্তাহেই দেহ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা পাঠায়। কানে চাপ, চোখে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ছোট ছোট মাথা ঘোরার স্পেলগুলোকে অবহেলা না করলে বড় অ্যাটাক আগেই প্রতিরোধ করা যায়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে ভার্টিগোর তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Leave A Comment