x
d o c t o r s 2 4
03 Dec

শিম বা বিনস (Phaseolus vulgaris) একটি পুষ্টিকর ডালি জাতীয় খাদ্য, যা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে খাদ্যতালিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সাধারণ খাদ্যটি তার উচ্চ পুষ্টিগুণ এবং বিশেষ করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিমকে ‘পুষ্টির ভান্ডার’ বলা যায়, কারণ এতে প্রোটিন, আঁটোবিটোমিন, খনিজ পদার্থ এবং জটিল কার্বোহাইড্রেটের প্রাচুর্য রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিমের পুষ্টিগুণ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এক কাপ সিদ্ধ শিমে প্রায় ১৫ গ্রাম প্রোটিন, ১৫ গ্রাম আঁটোবিটোমিন এবং প্রায় ৪৫ গ্রাম জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে। এছাড়াও এতে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং ফলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ উপস্থিত।

শিমের উচ্চ আঁটোবিটোমিনের পরিমাণ এটিকে হজমশক্তি উন্নত করতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক করে। এর নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (প্রায় ৩১) এবং উচ্চ ফাইবারের কারণে শিম খাদ্য গ্রহণের পর রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, যা হঠাৎ শর্করার উত্থান এড়ায়।

শিমের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। শিমে উপস্থিত অ্যালফা-অ্যামাইলেজ ইনহিবিটর নামক যৌগ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই যৌগ স্টার্চের হজম এবং গ্লুকোজে রূপান্তর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে, ফলে খাদ্য থেকে গ্লুকোজের শোষণ ধীর হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত শিম সেবন টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ফাস্টিং রক্তে শর্করার মাত্রা এবং হিমোগ্লোবিন এ১সি স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। এছাড়াও শিমের উচ্চ ফাইবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে, যা রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিদিন ৫০-১০০ গ্রাম শিম সেবন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের তুলনায় কম কিন্তু কার্যকর ফল প্রদান করে।

শিমের অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারের মধ্যে রয়েছে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস। এতে উপস্থিত স্যাপোনিন এবং ফাইটোস্টেরল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। শিম প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হওয়ায় এটি উদ্ভিজ্জ খাদ্য গ্রহণকারীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এছাড়াও এর উচ্চ ফাইবারের কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

শিম খাদ্যতালিকায় সহজেই অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এটি সিদ্ধ করে সালাদ, ডাল, স্যুপ বা সবজির সাথে মিশিয়ে সেবন করা যায়। তবে শিম সিদ্ধ করার আগে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা এবং পরবর্তীতে ভালোভাবে সিদ্ধ করা উচিত, কারণ অসিদ্ধ শিমে থাকা লেকটিন নামক যৌগ হজমে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিদিন ১/২ থেকে ১ কাপ সিদ্ধ শিম সেবন করা নিরাপদ এবং উপকারী।

নিয়মিত এবং সুষম পরিমাণে শিম খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা, হজমশক্তির উন্নতি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।

Leave A Comment