x
d o c t o r s 2 4
11 Dec

শীতের শুরু মানেই শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাড়ার সময়। বিশেষ করে ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস শীতের ঠান্ডা-শুষ্ক আবহাওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করেন ফ্লু শুধু সামান্য জ্বর–সর্দি, কিন্তু সত্য হলো—প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লক্ষাধিক মানুষ ফ্লু–সম্পর্কিত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের ফ্লু থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মৌসুমি ফ্লু ভ্যাকসিন। কেন এই ভ্যাকসিন এত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বছর নতুন কী যুক্ত হয়েছে—জেনে নিন বিস্তারিত।

শীতে ফ্লু ছড়ানোর মূল কারণ হলো ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভাইরাসের স্থায়িত্ব বেড়ে যাওয়া এবং ঘরে বেশি সময় কাটানোর ফলে একে অপরের কাছাকাছি থাকা। ফ্লু সাধারণত হঠাৎ জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও কখনো শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে।

তবে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং হৃদরোগ–ফুসফুসের রোগীদের ক্ষেত্রে ফ্লু দ্রুত নিউমোনিয়া বা সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে রূপ নিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রতি বছর ফ্লু ভ্যাকসিন আপডেট করে, কারণ ভাইরাসের স্ট্রেইন পরিবর্তন হয়। এ কারণে প্রতি শীতে নতুনভাবে ভ্যাকসিন নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এই বছরের ভ্যাকসিনে যুক্ত হয়েছে এমন কিছু অ্যান্টিজেন, যা বর্তমান সক্রিয় A এবং B টাইপ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস রোধে আরও কার্যকর বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন—গত বছরের তুলনায় এ বছর ইনফ্লুয়েঞ্জা A-H3N2 স্ট্রেইন বেশি সক্রিয়, আর আপডেটেড ভ্যাকসিন এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধেও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

বাংলাদেশে শীতের সময় ফ্লুর প্রকোপ কিছুটা ভিন্ন; এখানে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেশি আক্রান্ত দেখা যায়। দেশের কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শীতে শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে ভর্তি রোগীর মধ্যে ৩০–৩৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে শিশু রোগীদের মধ্যে একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশনের (ARI) সঙ্গে ফ্লুর সম্পর্ক বাড়ছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

ভ্যাকসিন নেওয়ার মূল কারণগুলো হলো—

১) ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা: ভ্যাকসিন শরীরে অ্যান্টিবডি গঠন করে, যা প্রকৃত ভাইরাস আক্রমণের সময় দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
২) গুরুতর জটিলতা কমায়: ফ্লু–জনিত নিউমোনিয়া, অ্যাজমা অ্যাটাক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪০–৬০% পর্যন্ত কমে।
৩) সংক্রমণ শৃঙ্খল কমায়: ভ্যাকসিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হলেও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
৪) হাসপাতালে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে: বিশেষ করে প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে।

চলতি বছর থেকে কিছু দেশে নাসাল স্প্রে ফ্লু ভ্যাকসিনও চালু হয়েছে, যা সুই–ভীত শিশুদের জন্য বড় সুবিধা। যদিও বাংলাদেশে তা এখনো সীমিত, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—দুই–তিন বছরের মধ্যে এটি আরও সহজলভ্য হতে পারে।

এটির কার্যকারিতা ইনজেকশনের প্রায় সমান হলেও রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে কোনটি উপযোগী হবে, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়ার উত্তম সময় হলো শীত শুরুর অন্তত ২–৩ সপ্তাহ আগে। তবে শীতের মাঝামাঝি সময়েও ভ্যাকসিন নিলে উপকার পাওয়া যায়, কারণ মৌসুমি ফ্লু বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সামান্য ব্যথা, হালকা জ্বর বা ক্লান্তি হতে পারে, কিন্তু তা ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়।

Leave A Comment