শীতের আগমনে সর্দি-কাশির সঙ্গে কানের ইনফেকশন একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। মায়ো ক্লিনিক এবং এনআইডিসিডি-র সাম্প্রতিক তথ্য (২০২৫) অনুসারে, তিন বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ৮০-৯০% শিশু অন্তত একবার কানের ইনফেকশন (অটাইটিস মিডিয়া) অনুভব করে, এবং শীতকালে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপ্রত্যাশিত ঠান্ডা তরঙ্গ এবং ইনডোর ক্রাউডিং এই সংক্রমণ ২০% পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে সাম্প্রতিক গাইডলাইন (এএপি ২০২৫ আপডেট) ওয়াচফুল ওয়েটিং-এর উপর জোর দিয়েছে। এই নিবন্ধে আমরা শীতে কানের ইনফেকশনের লক্ষণ, কারণ এবং ডাক্তারি চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
শীতে কানের ইনফেকশন কেন বাড়ে?
কানের ইনফেকশন প্রধানত মিডল ইয়ার ইনফেকশন (অটাইটিস মিডিয়া) হয়, যা ইউস্টেশিয়ান টিউব ব্লক হয়ে ফ্লুইড জমার কারণে হয়। শীতে এর প্রধান কারণসমূহ:
- শ্বাসকষ্টের ভাইরাল সংক্রমণ: সর্দি, ফ্লু বা আরএসভি ভাইরাস শীতে বেশি ছড়ায়। ইউস্টেশিয়ান টিউব ফুলে গিয়ে মিডল ইয়ারে ফ্লুইড জমে, যা ব্যাকটেরিয়া (যেমন স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া) দিয়ে সংক্রমিত হয়।
- ইনডোর ক্রাউডিং এবং শুষ্ক বাতাস: ঘরের ভিতরে বেশি সময় কাটানোর কারণে সংক্রমণ সহজে ছড়ায়। হিটারের শুষ্কতা টিউবকে ব্লক করে।
- শিশুদের অ্যানাটমি: শিশুদের ইউস্টেশিয়ান টিউব ছোট এবং সমান্তরাল, তাই ফ্লুইড ড্রেন হয় না। ২০২৫-এর এনআইএইচ রিপোর্ট অনুসারে, শীতে শিশুদের ৬-৮টি ভাইরাল ইনফেকশন হতে পারে, যা কানের সমস্যা বাড়ায়।
নতুন তথ্য: সোয়িমার্স ইয়ার (অটাইটিস এক্সটার্না) শীতে কম হলেও, ঠান্ডা জলে সাঁতার বা আর্দ্রতা থেকে হতে পারে—এটি আউটার ইয়ার ক্যানালের ইনফেকশন।
লক্ষণসমূহ:
লক্ষণ হঠাৎ শুরু হয় এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যথা প্রধান। মায়ো ক্লিনিকের ২০২৫ আপডেট অনুসারে:
- কানে তীব্র ব্যথা: শুয়ে থাকলে বাড়ে, কান টানলে ব্যথা হয়।
- জ্বর এবং অস্বস্তি: শিশুরা অস্থির হয়, কান ধরে টানে বা কাঁদে।
- শ্রবণশক্তি কমা বা কান ভরা ভাব: ফ্লুইড জমার কারণে।
- কান থেকে পুঁজ বা তরল বেরোনো: গুরুতর ক্ষেত্রে।
- অন্যান্য: মাথাব্যথা, ভারসাম্য হারানো বা বমি। শিশুদের ক্ষেত্রে স্পিচ ডিলে হতে পারে যদি বারবার হয়।
সোয়িমার্স ইয়ারে কানের বাইরে চুলকানি এবং লালভাব বেশি।
চিকিৎসা:
এএপি এবং সিডিসি-র ২০২৫ গাইডলাইন অনুসারে, বেশিরভাগ কানের ইনফেকশন (৮০%) নিজে থেকে ২-৩ দিনে সেরে যায়, বিশেষ করে ভাইরাল ক্ষেত্রে। চিকিৎসা:
- পেইন ম্যানেজমেন্ট: প্রথমে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন দিয়ে ব্যথা এবং জ্বর কমানো। ওটিসি ইয়ার ড্রপস (যদি পর্দা না ফাটে)।
- ওয়াচফুল ওয়েটিং: ৬ মাসের বেশি শিশু এবং মাইল্ড কেসে ৪৮-৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। নতুন গাইডলাইনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কমাতে এটি জোর দেওয়া হয়েছে।
- অ্যান্টিবায়োটিক: গুরুতর ক্ষেত্রে (উচ্চ জ্বর, দুই কান আক্রান্ত বা ৬ মাসের কম বয়সী) অ্যামোক্সিসিলিন প্রথম চয়েস। ৫-১০ দিনের কোর্স। ব্যর্থ হলে অগমেন্টিন।
- জটিলতার চিকিৎসা: বারবার হলে টিউব ইনসার্ট সার্জারি। সোয়িমার্স ইয়ারে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপস।
যদি লক্ষণ ৭ দিনের বেশি থাকে বা শ্রবণশক্তি কমে, তাহলে ইএনটি স্পেশালিস্ট দেখান।
প্রতিরোধের টিপস
শীতে কান ঢেকে রাখুন, ফ্লু ভ্যাকসিন নিন, ধূমপান এড়ান এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। শিশুদের ব্রেস্টফিডিং এবং উঁচু করে খাওয়ানো ঝুঁকি কমায়।
শীতে কানের ইনফেকশন সাধারণ কিন্তু সচেতনতায় নিয়ন্ত্রণযোগ্য। প্রথম দিকে লক্ষণ চিনে ডাক্তার দেখালে জটিলতা এড়ানো যায়।
