x
d o c t o r s 2 4
14 Dec

অতিরিক্ত কাজ করাকে অনেক সময় সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। “ব্যস্ত থাকা মানেই গুরুত্বপূর্ণ”—এই ধারণা থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় ওয়ার্কাহলিজম বা কাজের নেশা। কিন্তু সাম্প্রতিক মনোবিজ্ঞান ও কর্মস্বাস্থ্য গবেষণা বলছে, ওয়ার্কহোলিক হওয়া হঠাৎ ঘটে না। পূর্ণমাত্রায় কাজের প্রতি আসক্ত হয়ে ওঠার অন্তত তিন মাস আগেই শরীর ও মন কিছু স্পষ্ট সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। এই চারটি লক্ষণ চিনতে পারলে সময়মতো নিজেকে থামানো সম্ভব।

ওয়ার্কহোলিজম কী এবং কেন আগাম লক্ষণ দেখা যায়?

ওয়ার্কহোলিজম হলো এমন একটি আচরণগত আসক্তি, যেখানে কাজ শুধু দায়িত্ব নয়, মানসিক নিরাপত্তা ও আত্মমূল্যের একমাত্র উৎস হয়ে ওঠে। এই পর্যায়ে মস্তিষ্কের ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম ধীরে ধীরে কাজের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে শরীর ও মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে, যার প্রভাব আগেই লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়।

১. বিশ্রামে অপরাধবোধ এবং কাজ না করলে অস্থিরতা

ওয়ার্কহোলিক হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হলো বিশ্রামে অপরাধবোধ। ছুটি পেলেও মনে হয় সময় নষ্ট হচ্ছে। কাজ না থাকলে অস্বস্তি, অস্থিরতা বা খালি খালি লাগা শুরু হয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পর্যায়ে মস্তিষ্কে কর্টিসল ও ডোপামিনের ভারসাম্য বদলাতে থাকে, ফলে কাজই হয়ে ওঠে স্ট্রেস কমানোর একমাত্র উপায়।

২. শরীরের সংকেত উপেক্ষা করার প্রবণতা

তিন মাস আগে থেকেই অনেকেই ক্ষুধা, ঘুম বা ক্লান্তির সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করে দেন। নির্ধারিত খাবারের সময় বাদ পড়ে, গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চলে, অসুস্থ হলেও “পরে দেখা যাবে” মানসিকতা তৈরি হয়। কর্মস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি বিপজ্জনক পর্যায়—কারণ শরীরের প্রাকৃতিক রিকভারি সিস্টেম তখন চাপের মধ্যে পড়ে যায়।

৩. সামাজিক সম্পর্ক থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্নতা

ওয়ার্কাহলিজমের পথে এগোলে ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যায়। বন্ধুদের ফোন এড়িয়ে চলা, পারিবারিক আড্ডা ‘ডিসট্র্যাকশন’ মনে হওয়া বা সব কথোপকথন কাজকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়া—এই লক্ষণগুলো অনেক সময় নিজেই চোখে পড়ে না। নতুন তথ্য বলছে, এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মস্তিষ্কের অক্সিটোসিন নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা মানসিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

৪. আত্মমূল্য সম্পূর্ণভাবে কাজের ফলাফলের সঙ্গে জুড়ে যাওয়া

এই পর্যায়ে নিজের মূল্যায়ন শুরু হয় কাজের সাফল্য দিয়ে। ভালো পারফরম্যান্স মানেই নিজেকে ভালো মানুষ মনে হওয়া, আর সামান্য ব্যর্থতায় অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা। মনোবিজ্ঞানীরা একে “পারফরম্যান্স-ভিত্তিক সেল্ফ-ওয়ার্থ” বলেন, যা ওয়ার্কাহলিজমের অন্যতম শক্ত ভিত্তি।

এই চারটি লক্ষণ একসঙ্গে বা ক্রমান্বয়ে দেখা দিলে সেটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে নিতে হবে। কাজের সময় ও বিশ্রামের মধ্যে স্পষ্ট সীমা টানা, ‘না’ বলতে শেখা এবং নিয়মিত ডিজিটাল ডিটক্স অত্যন্ত কার্যকর। সপ্তাহে অন্তত একদিন সম্পূর্ণ কাজবিহীন সময় রাখা মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

Leave A Comment