x
d o c t o r s 2 4
19 Dec

অনলাইনে বেটিং অ্যাপ, ফ্যান্টাসি লিগ, ক্যাসিনো গেম বা লটারির সহজলভ্যতা গ্যাম্বলিংকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে। গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশন অনেকের কাছেই হঠাৎ আচরণগত সমস্যা বলে মনে হয়, কিন্তু নিউরোসায়েন্স ও আচরণগত মনোবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—পূর্ণমাত্রার আসক্তির অন্তত ছয় মাস আগেই শরীর ও মস্তিষ্ক কিছু স্পষ্ট সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে।

এই লক্ষণগুলো সময়মতো চিনতে পারলে আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ের আগেই নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশন কেন আগাম লক্ষণ দেয়?

গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশন মূলত একটি ডোপামিন-নির্ভর আচরণগত আসক্তি। জেতার অনিশ্চয়তা মস্তিষ্কে “ভ্যারিয়েবল রিওয়ার্ড সিস্টেম” সক্রিয় করে, যা কোকেন বা অ্যালকোহলের মতোই শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই সিস্টেম দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলে তার প্রভাব প্রথমে শরীর, ঘুম ও আবেগে দেখা যায়।

১. অকারণ অস্থিরতা ও উত্তেজনা বেড়ে যাওয়া

ছয় মাস আগে থেকেই অনেকের মধ্যে অকারণ অস্থিরতা, ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা বা “কিছু একটা করতে হবে” অনুভূতি তৈরি হয়। এটি সাধারণ উদ্বেগ নয়; বরং মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম অতিরিক্ত উদ্দীপনা চাইতে শুরু করার ফল। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পর্যায়ে ডোপামিন রিসেপ্টরের সংবেদনশীলতা কমতে থাকে।

২. ঘুমের ছন্দে পরিবর্তন

রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়া, মাঝরাতে জেগে ওঠা বা সকালে অতিরিক্ত ক্লান্তি—এই লক্ষণগুলো গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশনের প্রাক-পর্যায়ে খুব সাধারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের নিরিবিলি সময়ে গ্যাম্বলিংয়ের চিন্তা বা অনলাইন অ্যাক্টিভিটি মেলাটোনিন নিঃসরণ ব্যাহত করে।

৩. মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া

এই সময়ে কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ছোট সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। নিউরোবায়োলজির তথ্য বলছে, প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে—যা আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. শরীরের স্ট্রেস-সংক্রান্ত উপসর্গ

ঘন ঘন মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, ঘাম, পেটের অস্বস্তি বা হালকা কাঁপুনি—এই উপসর্গগুলো অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট রোগ ছাড়াই দেখা দেয়। এগুলো আসলে ক্রনিক স্ট্রেস ও উত্তেজনার শারীরিক প্রকাশ, যা গ্যাম্বলিংয়ের প্রতি মানসিক টান তৈরি হওয়ার আগেই শুরু হয়।

৫. গোপনীয়তা ও আত্মগোপনের প্রবণতা

ছয় মাস আগে থেকেই ফোন বা স্ক্রিন আড়াল করা, অনলাইন অ্যাক্টিভিটির কথা গোপন রাখা বা প্রশ্ন করলে বিরক্ত হওয়া—এই আচরণগুলো দেখা দিতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা একে আসক্তির “সিক্রেসি ফেজ” বলেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।

৬. অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা ও অদ্ভুত আশাবাদ

এই পর্যায়ে অর্থ নিয়ে অস্বাভাবিক চিন্তা শুরু হয়—একদিকে আর্থিক চাপ, অন্যদিকে হঠাৎ বড় জয়ের অবাস্তব আশাবাদ। নতুন গবেষণা বলছে, এই “আশা–উদ্বেগের দোলাচল” গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশনের সবচেয়ে শক্তিশালী মানসিক চালিকা শক্তি।

কীভাবে এই পর্যায়েই নিজেকে রক্ষা করবেন?

এই ছয়টি লক্ষণ একসঙ্গে বা ধীরে ধীরে দেখা দিলে সেটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে নিতে হবে। ডিজিটাল বেটিং অ্যাপ থেকে দূরে থাকা, স্ক্রিন টাইম সীমিত করা এবং বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা অ্যাডিকশন কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া উচিত।

 

Leave A Comment