x
d o c t o r s 2 4
29 Dec

গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি (জিএইচডি) একটি গুরুতর অবস্থা, যা পিটুইটারি গ্রন্থির কারণে শরীরে পর্যাপ্ত গ্রোথ হরমোন উৎপাদিত না হওয়ায় দেখা দেয়। এটি শিশুদের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিপাকীয় ক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ এতে আক্রান্ত, কিন্তু প্রাথমিক সনাক্তকরণের অভাবে অনেকেরই চিকিৎসা বিলম্বিত হয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, জিএইচডির পূর্ণ রূপ প্রকাশের প্রায় ২ বছর আগে থেকেই শরীরে সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা যায়, যা ‘ইভলভিং গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি’ (ইজিএইচডি) নামে পরিচিত। ২০২৪ সালের একটি ফ্রন্টিয়ার্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় এই ধারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে শিশুদের মধ্যে ৫৯% ক্ষেত্রে প্রাথমিক পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফলাফলের পরও ২.২৩ বছর পর পুনরায় পরীক্ষায় জিএইচডি ধরা পড়ে।

এছাড়া, ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জিএইচডির প্রাদুর্ভাব ০.২ থেকে ৩৭ জন প্রতি ১ লক্ষ মানুষে পাওয়া গেছে, যা আগের অনুমানের চেয়ে বেশি। এই লক্ষণগুলো চিনে রাখলে সময়মতো চিকিৎসা নিয়ে জটিলতা এড়ানো যায়।

গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি কী এবং কেন হয়?

জিএইচডি হলো গ্রোথ হরমোনের অভাব, যা জন্মগত (কনজেনিটাল) বা অর্জিত (যেমন মস্তিষ্কের আঘাত, টিউমার বা রেডিয়েশন থেকে) হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বৃদ্ধির গতি কমায়, যখন প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিপাক, হাড়ের ঘনত্ব এবং মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত হয়। এন্ডোক্রাইন সোসাইটির মতে, শিশুদের মধ্যে ধীর বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যা গ্রোথ চার্টে ২ বা তার বেশি পার্সেন্টাইল কমে যাওয়ায় দেখা যায়।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, ২০২৪ সালের আপডেট অনুসারে, শরীরের গঠন পরিবর্তন, ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পিটুইটারি টিউমার, মস্তিষ্কের আঘাত বা জেনেটিক সমস্যা।

২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলেদের মধ্যে জিএইচডির নির্ণয়ে লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাতিত্ব রয়েছে, যা মেয়েদের ক্ষেত্রে কম ধরা পড়ার কারণ।

২ বছর আগে দেখা দেয় যে ৭টি প্রধান লক্ষণ

জিএইচডির পূর্ণ নির্ণয়ের আগে, বিশেষ করে ইজিএইচডির ক্ষেত্রে, শরীরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা যায়। ফ্রন্টিয়ার্সের গবেষণা অনুসারে, এগুলো প্রায় ২ বছর আগে শুরু হয় এবং পুনরায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়। নিম্নে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা:

  • ধীর বৃদ্ধির গতি: বছরে ৫ সেন্টিমিটারের কম বৃদ্ধি, বিশেষ করে ৩ বছর বয়সের পর। এটি প্রথম লক্ষণ, যা গ্রোথ চার্টে দেখা যায়।
  • উচ্চতার পার্সেন্টাইল কমে যাওয়া: গ্রোথ চার্টে ২ বা তার বেশি পার্সেন্টাইল নেমে যাওয়া, যা ইজিএইচডির ইঙ্গিত।
  • ক্লান্তি এবং কম শক্তি: শিশু বা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, যা দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলে।
  • শরীরে চর্বি বৃদ্ধি: কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমা, যা শরীরের গঠন পরিবর্তন করে এবং মোটা চেহারা দেয়।
  • অপরিপক্ব চেহারা: সহকর্মীদের তুলনায় ছোট বা অপরিপক্ব মুখ, যা শিশুদের মধ্যে স্পষ্ট।
  • মাংসপেশীর দুর্বলতা: মাংসপেশীর ভর কমে যাওয়া এবং শক্তির অভাব, যা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
  • মেজাজের পরিবর্তন: উদ্বেগ, বিষণ্ণতা বা মানসিক অস্থিরতা, যা হরমোনের অস্থিরতার কারণে হয়।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক সনাক্তকরণের জন্য পুনরায় জিএইচ স্টিমুলেশন টেস্ট (জিএসটি) অত্যন্ত কার্যকর, যা ইজিএইচডির ক্ষেত্রে ৫৯% সাফল্য দেখিয়েছে। চিকিৎসায় রিকম্বিন্যান্ট গ্রোথ হরমোন (আরএইচজিএইচ) থেরাপি ব্যবহার করা হয়, যা উচ্চতা ১.১৮ এসডি বাড়াতে পারে।

প্রতিরোধে নিয়মিত গ্রোথ মনিটরিং, স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১০% এরও কম চিকিৎসা নেন, যা ঝুঁকি বাড়ায়।

ম্যাকিমোরেলিন নামক নতুন টেস্ট সহজ এবং কার্যকর, যা ডায়াগনোসিসকে সহজ করে। কোনো লক্ষণ দেখলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—এটি জীবনমান উন্নত করতে পারে।

Leave A Comment