x
d o c t o r s 2 4
05 Jan

ALS বা অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক স্নায়ুরোগ, যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের মোটর নিউরন ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে পেশির শক্তি কমে যায়, নড়াচড়া, কথা বলা এমনকি শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে ওঠে। সাধারণত রোগটি ধরা পড়ে তখনই, যখন পেশি দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যায়।

কিন্তু স্নায়ুবিশেষজ্ঞদের মতে, ALS নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়ার প্রায় ৮–১২ মাস আগেই শরীরে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন শুরু হয়, যেগুলো অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। নিচে ALS-এর এমন ৭টি আগাম লক্ষণের কথা তুলে ধরা হলো, যা এক বছর আগেই শরীর ইঙ্গিত হিসেবে দিতে পারে।

১. এক পাশের হাতে বা পায়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতা

ALS-এর প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত শরীরের এক পাশ বেশি আক্রান্ত হয়। যেমন—হঠাৎ কলম ধরতে কষ্ট হওয়া, বোতামের বোতাম লাগাতে সমস্যা বা হাঁটার সময় এক পা টেনে চলার অভ্যাস তৈরি হওয়া। এই দুর্বলতা শুরুতে খুব হালকা থাকে, তাই অনেকেই এটিকে বয়সজনিত বা সাময়িক ক্লান্তির ফল বলে মনে করেন।

২. পেশিতে অকারণ ঝাঁকুনি বা ফ্যাসিকুলেশন

হাত, পা বা কাঁধের পেশিতে চোখে দেখা যায় এমন ছোট ছোট কাঁপুনি বা ঝাঁকুনি ALS-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আগাম লক্ষণ। এগুলো ব্যথাহীন হলেও ঘন ঘন হতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, মোটর নিউরন ক্ষতিগ্রস্ত হলে পেশির স্নায়ু সংকেত অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে, যার ফলেই এই ঝাঁকুনি দেখা দেয়।

৩. পেশি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া (মাসল অ্যাট্রফি)

খেয়াল করলে দেখা যায়, একটি হাত বা পায়ের পেশি আগের তুলনায় পাতলা হয়ে যাচ্ছে। শরীরের ওজন খুব বেশি না কমলেও নির্দিষ্ট অংশের পেশি ক্ষয় হতে থাকে। এটি ALS-এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সতর্কতামূলক লক্ষণ, যা সাধারণ ব্যায়ামের অভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

৪. কথা বলতে বা শব্দ উচ্চারণে সামান্য সমস্যা

ALS-এর বালবার টাইপে রোগের শুরুতেই কথা জড়িয়ে যাওয়া, শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে কষ্ট হওয়া বা দীর্ঘক্ষণ কথা বললে গলা ভারী হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় আশপাশের মানুষই প্রথম বুঝতে পারেন যে রোগীর কথার স্বাভাবিকতা বদলে যাচ্ছে।

৫. সহজ কাজে অস্বাভাবিক ক্লান্তি

আগে যে কাজগুলো অনায়াসে করা যেত, সেগুলো করতে হঠাৎ খুব বেশি শক্তি লাগছে বলে মনে হওয়া ALS-এর একটি সূক্ষ্ম লক্ষণ। যেমন—সিঁড়ি ভাঙতে গেলে অস্বাভাবিক হাঁপিয়ে যাওয়া বা বাজারের ব্যাগ তুলতে কষ্ট হওয়া। এই ক্লান্তি বিশ্রাম নিলেও পুরোপুরি কাটে না।

৬. ভারসাম্য ও সমন্বয় সমস্যার শুরু

হাঁটার সময় হঠাৎ হোঁচট খাওয়া, ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারা বা সূক্ষ্ম কাজের সমন্বয়ে সমস্যা হওয়াও ALS-এর আগাম ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও ALS সরাসরি সংবেদনশীল স্নায়ু আক্রান্ত করে না, তবুও পেশির নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

৭. অকারণ মানসিক পরিবর্তন ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা

অনেক ক্ষেত্রে ALS-এর আগে আগে আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়—হঠাৎ বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া, অল্প কথায় হাসি বা কান্না পাওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, ALS কিছু ক্ষেত্রে ফ্রন্টোটেম্পোরাল ব্রেন ফাংশনের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা এই উপসর্গের জন্য দায়ী।

কেন আগাম লক্ষণগুলো জানা জরুরি

ALS এখনও পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে আগেভাগে শনাক্ত হলে রোগের অগ্রগতি ধীর করার ও জীবনমান উন্নত করার সুযোগ থাকে। ফিজিওথেরাপি, নিউরোলজিকাল কেয়ার ও সহায়ক চিকিৎসা রোগীর দৈনন্দিন জীবনকে অনেকটাই সহজ করতে পারে।

যদি উপরের একাধিক লক্ষণ কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, বিশেষ করে এক পাশের পেশিতে দুর্বলতা ও ঝাঁকুনি একসঙ্গে দেখা যায়, তাহলে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave A Comment