x
d o c t o r s 2 4
11 Jan

দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা অনেক সময় শুধু গ্যাস্ট্রিক বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের ফল বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণা জানাচ্ছে, অন্ত্রের একটি জটিল প্রদাহজনিত রোগ—ক্রোনস ডিজিজ—স্পষ্টভাবে ধরা পড়ার প্রায় ২–৩ মাস আগেই শরীরে একাধিক সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে শুরু করে। এই সংকেতগুলো সময়মতো চিনতে পারলে রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং জটিলতা কমানো অনেক সহজ হয়।

ক্রোনস ডিজিজ কী এবং কেন হয়

ক্রোনস ডিজিজ হলো ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)-এর একটি ধরন, যা মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো অংশে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এর সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা না গেলেও জেনেটিক ঝুঁকি, ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতাকে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারও রোগের ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।

নিচে ক্রোনস ডিজিজের ৩ মাস আগে প্রায়ই দেখা দেওয়া ৭টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো—

১. দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
রোগের শুরুতেই পাতলা পায়খানা দিনের পর দিন চলতে পারে। অনেক সময় রক্ত বা শ্লেষ্মা মিশ্রিত ডায়রিয়াও দেখা যায়। এটি সাধারণ সংক্রমণজনিত ডায়রিয়ার মতো দ্রুত সেরে যায় না।

২. পেটব্যথা ও পেট ফাঁপা
খাবারের পর তীব্র পেটব্যথা, ক্র্যাম্প বা ফাঁপা ভাব ক্রোনস ডিজিজের একটি প্রাথমিক লক্ষণ। নতুন তথ্য অনুযায়ী, প্রদাহের কারণে অন্ত্রের স্বাভাবিক সংকোচন ব্যাহত হওয়ায় এই ব্যথা তৈরি হয়।

৩. অকারণ ওজন কমে যাওয়া
খাবারের পরিমাণ ঠিক থাকলেও ধীরে ধীরে ওজন কমতে পারে। অন্ত্রের প্রদাহ পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি ও পুষ্টি পায় না।

৪. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা
রোগ প্রকাশের কয়েক মাস আগেই অনেকেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রদাহজনিত সাইটোকাইন শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

৫. মলদ্বারের আশপাশে সমস্যা
ফিস্টুলা, ফোঁড়া বা ব্যথাযুক্ত ফাটল (অ্যানাল ফিসার) ক্রোনস ডিজিজের একটি বিশেষ লক্ষণ। অনেক সময় পেটের সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৬. জ্বর ও রাতের ঘাম
হালকা কিন্তু বারবার জ্বর হওয়া বা রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া শরীরের ভেতরে চলমান প্রদাহের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি অনেক সময় ভাইরাল জ্বর ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

৭. ত্বক ও জয়েন্টের সমস্যা
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রোনস ডিজিজ অন্ত্রের বাইরেও প্রভাব ফেলতে পারে। ত্বকে লাল ফুসকুড়ি, মুখে ঘা বা জয়েন্টে ব্যথা রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন

উপরের একাধিক লক্ষণ যদি ৩–৪ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্ত পরীক্ষা, স্টুল টেস্ট, কলোনোস্কপি ও ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে ক্রোনস ডিজিজ নির্ণয় করা যায়।

Leave A Comment