এন্ডোকার্ডাইটিস হলো হৃদপিণ্ডের অভ্যন্তরীণ ঝিল্লি বা ভ্যালভে সংক্রমণজনিত একটি মারাত্মক রোগ। যদিও এটি খুব দ্রুত শুরু হতে পারে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শরীর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই সতর্ক সংকেত পাঠাতে শুরু করে। এই সংকেতগুলো সময়মতো চিনতে পারলে গুরুতর জটিলতা ও প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এন্ডোকার্ডাইটিস কেন হয়
এই রোগ সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বা কখনো ফাঙ্গাসের কারণে ঘটে। রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে সংক্রমণ হৃদপিণ্ডের ভ্যালভে পৌঁছে সংক্রমণ সৃষ্টি করে। যাদের হৃদপিণ্ডের পূর্বের সমস্যা, যেমন ভ্যালভুলার ডিজিজ, কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ বা আগের হার্ট সার্জারি আছে, তাদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ক্যাথেটার বা ইন্ট্রাভেনাস ওষুধ ব্যবহারও সংক্রমণ বাড়াতে পারে।
নিচে এন্ডোকার্ডাইটিসের ১ সপ্তাহ আগে শরীরে দেখা দেয় এমন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
১. জ্বর ও ঠান্ডা লাগা
রোগ প্রকাশের প্রায় এক সপ্তাহ আগে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর শুরু হয়। অনেক সময় ঠান্ডা লাগা, শীতের কাপকাপানি বা ঘামের সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, রোগের প্রাথমিক জ্বর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং রাতে তীব্র ঘাম হতে পারে।
২. অবসাদ ও দুর্বলতা
এন্ডোকার্ডাইটিসের শুরুতেই অনেকেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন। স্বাভাবিক কাজকর্মেও শরীর ভারী লাগে। এর মূল কারণ হলো সংক্রমণজনিত প্রদাহ এবং অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি।
৩. হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকতা
হৃদয় সচল থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে হার্টবিট অনিয়মিত বা দ্রুত হতে পারে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণ ভ্যালভ বা হৃদয় ঝিল্লিকে প্রভাবিত করে হার্টবিটে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
৪. চামড়ায় ছোট ফুসকুড়ি বা দাগ
রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে হাতের তালু বা পায়ের তালুতে ছোট লাল ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নখের তলে ছোট লাল বা বাদামী দাগও লক্ষ্য করা যায়। এই ফুসকুড়ি সংক্রমণ এবং রক্তবাহিত এন্টিবডির প্রতিক্রিয়ার কারণে হয়।
৫. স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শ্বাসকষ্ট
এক সপ্তাহ আগে থেকেই হালকা শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা সহজে ক্লান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ হৃদয়কে সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে বাধা দেয়, যা শরীরের অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়।
৬. অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস ও ক্ষুধা কমে যাওয়া
সংক্রমণ ও প্রদাহজনিত কারণের কারণে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। পাশাপাশি শরীরের পুষ্টি শোষণ প্রভাবিত হওয়ায় অল্প সময়েই ওজন হ্রাস দেখা দিতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন
উপরের একাধিক লক্ষণ যদি একসঙ্গে দেখা যায়, বিশেষ করে জ্বর ও হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়, তখন অবিলম্বে কার্ডিওলজিস্ট বা ইন্টার্নাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্ত পরীক্ষা (Blood Culture), ইকোকার্ডিওগ্রাফি এবং অন্যান্য ইমেজিং পদ্ধতি দ্বারা এন্ডোকার্ডাইটিস নির্ণয় করা সম্ভব।
চিকিৎসা
সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত হলে এন্টিবায়োটিক থেরাপি দ্বারা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে দেরি হলে হৃদয় ভ্যালভ বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি হতে পারে। তাই বিশেষ করে পূর্বের হার্ট রোগ থাকা ব্যক্তিদের জ্বর বা অসুস্থতা অবহেলা না করা জরুরি।
