x
d o c t o r s 2 4
07 Jan

ভালভুলার হার্ট ডিজিজ (Valvular Heart Disease) বলতে হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভগুলোর (মাইট্রাল, এওর্টিক, ট্রাইকাসপিড, পালমোনারি) খোলা-বন্ধে সমস্যা হওয়াকে বোঝায়। এই রোগ হঠাৎ করেই ধরা পড়ে—এমন ধারণা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে শরীর আগেই সতর্ক সংকেত দেয়।

গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা বলছে, রোগ ধরা পড়ার প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেগুলো আমরা প্রায়ই অবহেলা করি। এই লক্ষণগুলো চিনে ফেলতে পারলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

১. অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট

আগে যে কাজগুলো অনায়াসে করা যেত—সিঁড়ি ভাঙা, দ্রুত হাঁটা বা হালকা দৌড়—সেগুলোতে হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ভালভ সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে মাইট্রাল বা এওর্টিক ভালভে সমস্যা হলে ফুসফুসে রক্ত জমে এমন শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

২. অকারণ ক্লান্তি ও শক্তি কমে যাওয়া

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাদিন ক্লান্ত লাগা, কাজের মাঝখানে শক্তি হারিয়ে ফেলা—এসবকে অনেকেই স্ট্রেস বা বয়সজনিত ভাবেন। কিন্তু হৃদ্‌যন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরের কোষে অক্সিজেন কম পৌঁছায়, ফলে এই ক্লান্তি তৈরি হয়।

৩. বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

ভালভের ত্রুটির কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে। বুকের ভেতর ধড়ফড়, কখনো খুব দ্রুত আবার কখনো থেমে থেমে স্পন্দন অনুভূত হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।

৪. পা, গোড়ালি বা পেট ফোলা

হৃদ্‌যন্ত্রের ডান পাশের ভালভ আক্রান্ত হলে শরীরে তরল জমতে শুরু করে। এর ফল হিসেবে পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া, এমনকি পেটেও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে—যা অনেক সময় কিডনি বা লিভারের সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়।

৫. মাথা ঘোরা বা হঠাৎ দুর্বল লাগা

এওর্টিক ভালভ সংকুচিত হলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এর ফলে মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা বা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

৬. রাতে কাশি বা শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া

ঘুমানোর সময় হঠাৎ কাশি বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বালিশ উঁচু করে না রাখলে ঘুম না আসা—এসব মাইট্রাল ভালভ সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস হতে পারে।

৭. ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে ঠোঁট, নখ বা আঙুলের ডগা নীলচে দেখাতে পারে। এটি সাধারণত রোগের কিছুটা অগ্রসর পর্যায়ে দেখা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে ৬ মাস আগেই হালকা লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়।

কেন আগে শনাক্ত করা জরুরি?

ভালভুলার হার্ট ডিজিজ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জটিল আকার নিতে পারে—হার্ট ফেইলিউর, স্ট্রোক বা হঠাৎ মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ায়। তবে আধুনিক ইকোকার্ডিওগ্রাফি, এমআরআই ও ওষুধের সাহায্যে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

এই লক্ষণগুলোর একাধিক যদি কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত হার্ট চেকআপ, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা—এসবই ভালভের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Leave A Comment