পেনাইল ক্যান্সার বা লিঙ্গের ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এটি অবহেলিত একটি মারাত্মক রোগ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি এবং চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করার কারণে এই ক্যান্সার প্রায়ই দেরিতে ধরা পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, পেনাইল ক্যান্সার হঠাৎ করে দেখা দেয় না; বরং রোগ নিশ্চিত হওয়ার অন্তত ১–২ মাস আগেই শরীরে কিছু দৃশ্যমান ও অনুভূত লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এই আগাম লক্ষণগুলো চিনে নিতে পারলে সময়মতো চিকিৎসা নিয়ে জীবন ও অঙ্গ—দুটোই রক্ষা করা সম্ভব।
নিচে পেনাইল ক্যান্সারের ২ মাস আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—
১. লিঙ্গের ত্বকে ঘা, ক্ষত বা শক্ত দাগ
পেনাইল ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ হলো লিঙ্গের মাথা বা চামড়ায় ছোট ঘা, ক্ষত বা শক্ত দাগ দেখা দেওয়া। অনেক সময় এটি ব্যথাহীন থাকে এবং কয়েক সপ্তাহেও সারে না। অনেক পুরুষ এটিকে সাধারণ ফুসকুড়ি বা সংক্রমণ মনে করে অবহেলা করেন, যা রোগকে আরও জটিল করে তোলে।
২. লিঙ্গের রং বা ত্বকের গঠনে পরিবর্তন
সংক্রমণের আগাম পর্যায়ে লিঙ্গের ত্বক লালচে, গাঢ় বা অস্বাভাবিক সাদা হয়ে যেতে পারে। ত্বক মোটা হয়ে যাওয়া, খসখসে ভাব বা চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। এই পরিবর্তনগুলো সাধারণ অ্যালার্জির মতো মনে হলেও দীর্ঘস্থায়ী হলে বিপদের ইঙ্গিত দেয়।
৩. দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বা রক্তপাত
লিঙ্গের মাথা বা চামড়ার নিচ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত তরল নিঃসরণ শুরু হতে পারে। কখনো কখনো হালকা রক্তপাতও দেখা যায়, বিশেষ করে পরিষ্কার করার সময়। এই স্রাব সাধারণ সংক্রমণের মতো হলেও অ্যান্টিবায়োটিকে না সারা একটি বড় সতর্কবার্তা।
৪. চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
পেনাইল ক্যান্সারের আগাম পর্যায়ে লিঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এটি প্রস্রাবের সময় বা সহবাসের সময় বাড়তে পারে। অনেকেই এটিকে ছত্রাক সংক্রমণ ভেবে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট করেন।
৫. কুঁচকিতে গাঁট বা ফোলা অনুভব হওয়া
ক্যান্সার কোষ লিম্ফ নোডে ছড়াতে শুরু করলে কুঁচকির দুই পাশে ছোট বা মাঝারি আকারের গাঁট দেখা দিতে পারে। সাধারণত এগুলো ব্যথাহীন হয়, কিন্তু চাপ দিলে অস্বস্তি লাগে। এটি পেনাইল ক্যান্সারের একটি গুরুতর পূর্বাভাসমূলক লক্ষণ।
পেনাইল ক্যান্সারের ঝুঁকি কেন বাড়ছে
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ, দীর্ঘদিন ফাইমোসিস (চামড়া না সরতে পারা), ধূমপান এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব পেনাইল ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও HPV সম্পর্কে সচেতনতা এই ক্যান্সার প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন আগেভাগে শনাক্ত করা জরুরি
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে পেনাইল ক্যান্সারের চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ এবং অঙ্গ সংরক্ষণ করেই চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু দেরি হলে অস্ত্রোপচার বড় আকারের হতে পারে এবং জীবনমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
করণীয় কী?
লিঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন ২–৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে দেরি না করে ইউরোলজিস্ট বা সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সচেতনতা, লজ্জা ঝেড়ে ফেলা এবং সময়মতো পরীক্ষা—এই তিনটি বিষয়ই পেনাইল ক্যান্সার থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
