x
d o c t o r s 2 4
04 Feb

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই একটি ভীতি কাজ করে—অনেকেই মনে করেন শর্করা মানেই ওজন বৃদ্ধি। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, শর্করা শরীরের প্রধান জ্বালানি। ২০২৬ সালের আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, শর্করা বাদ দেওয়া নয়, বরং সঠিক শর্করা নির্বাচন করাই সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি।

আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করার আদর্শ উৎস এবং এর সঠিক পরিমাণ নিয়ে আজকের এই বিশেষ ফিচার।

আমাদের শরীর শর্করা ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে, যা মস্তিষ্ক ও পেশিকে শক্তি জোগায়। তবে সব শর্করা এক নয়। পুষ্টিবিদরা শর্করাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করেছেন: সরল শর্করা (Simple Carbs) এবং জটিল শর্করা (Complex Carbs)। ২০২৬ সালের ডায়েট চার্টে জটিল শর্করার আধিপত্য সবচেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্যকর শর্করার সেরা উৎসসমূহ

খাদ্যতালিকায় শর্করা রাখার সময় “হোল গ্রেইন” বা পূর্ণ শস্যকে অগ্রাধিকার দিন:

  • লাল চাল ও লাল আটা: সাদা চাল বা ময়দার তুলনায় এতে ফাইবার বা আঁশ অনেক বেশি থাকে, যা রক্তে চিনির মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।

  • মিষ্টি আলু: এটি জটিল শর্করার একটি শক্তিশালী উৎস, যাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ভিটামিন এ রয়েছে।

  • মিলেট ও ওটস: আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে মিলেট (যেমন- বাজরা, জোয়ার) এখন সুপারফুড। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

  • ডাল ও শিম: ছোলা, মসুর ডাল বা রাজমাতে শর্করার পাশাপাশি প্রচুর প্রোটিন থাকে।

  • ফলমূল: আপেল, বেরি বা কলার মতো ফল থেকে পাওয়া শর্করা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী কারণ এর সাথে ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়।

প্রতিদিন ঠিক কতটুকু শর্করা প্রয়োজন?

আপনার শরীরের ক্যালরি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে শর্করার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্দেশিকা অনুযায়ী:

১. সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক: দৈনিক মোট ক্যালরির ৪৫% থেকে ৬৫% শর্করা থেকে আসা উচিত। গ্রাম হিসেবে এটি গড়ে ২২৫ থেকে ৩২৫ গ্রামের মতো।

২. ওজন কমাতে চাইলে: শর্করার পরিমাণ কমিয়ে ৩৫% থেকে ৪০% এ আনা যেতে পারে। তবে দিনে ন্যূনতম ১০০-১৩০ গ্রামের নিচে শর্করা গ্রহণ করা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এতে মস্তিষ্ক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।

৩. বিস্কুট পরীক্ষা: একটি মজার তথ্য হলো—আপনি একটি সাধারণ বিস্কুট মুখে নিয়ে চিবুতে থাকুন। যদি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সেটি মিষ্টি লাগতে শুরু করে, তবে বুঝবেন আপনার শরীর শর্করা ভালোভাবে হজম করতে পারছে। আর যদি দেরি হয়, তবে আপনার শর্করা গ্রহণের পরিমাণ কমানো উচিত।

শর্করা গ্রহণের আধুনিক টিপস

  • আঁশযুক্ত খাবার (Fiber): শর্করা জাতীয় খাবারের সাথে প্রচুর শাকসবজি খান। আঁশ শর্করা হজমের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে দীর্ঘ সময় শক্তি পাওয়া যায়।

  • প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন: কোল্ড ড্রিঙ্কস, সাদা পাস্তা, কেক বা বিস্কুট থেকে পাওয়া শর্করা শরীরে দ্রুত চর্বি তৈরি করে। এগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

  • রাতের শর্করা: রাতে ভারি ভাতের বদলে ওটস বা লাল আটার রুটি বেছে নিন, যা হজম করা সহজ।

বিশেষ তথ্য: ২০২৬ সালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্যের মোড়কে শর্করার পরিমাণ স্পষ্ট করার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে। তাই প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় লেবেলে ‘এডেড সুগার’ বা যোগ করা চিনির পরিমাণ অবশ্যই দেখে নিন।

শর্করা আপনার শত্রু নয়, বরং বন্ধু যদি আপনি সঠিক উৎসটি বেছে নেন। সাদা চালের বদলে লাল চাল আর ময়দার বদলে আটা গ্রহণ করলেই আপনি ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনতে পারেন।

 

Leave A Comment