x
d o c t o r s 2 4
ক্রি ডু চ্যাট সিন্ড্রোম শনাক্তের ২ বছর আগে দেখা দেয় ৫টি বিশেষ লক্ষণ
14 Feb

ক্রি ডু চ্যাট সিন্ড্রোম (Cri du Chat Syndrome) বা ‘ক্যাট ক্রাই সিন্ড্রোম’ একটি অত্যন্ত বিরল জেনেটিক ব্যাধি, যা ৫ম ক্রোমোজোমের একটি অংশ অনুপস্থিত থাকার কারণে ঘটে। এই রোগের নাম ‘ক্রি ডু চ্যাট’ রাখার কারণ হলো আক্রান্ত শিশুরা জন্মের পর বিড়ালের বাচ্চার মতো চিকন সুরে কান্না করে।

সাধারণত এই রোগটি জন্মের পরপরই শনাক্ত হয়। তবে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার বা রোগটি দীর্ঘস্থায়ী জটিলতায় রূপ নেওয়ার ২ বছর আগে থেকেই শিশু বিকাশের ক্ষেত্রে ৫টি বিশেষ সতর্ক সংকেত বা লক্ষণ দেখা দেয়। এই লক্ষণগুলো সঠিকভাবে বুঝতে পারলে দ্রুত থেরাপি এবং সঠিক যত্ন শুরু করা সম্ভব।

১. অস্বাভাবিক হাই-পিচ কান্না (যা পরবর্তীতে কমে যায়):

জন্মের পরপরই শিশু যদি বিড়ালের মিউ মিউ শব্দের মতো তীক্ষ্ণ সুরে কান্না করে, তবে এটিই সবচেয়ে বড় প্রাথমিক লক্ষণ। মজার বিষয় হলো, শিশুর বয়স ২ বছর হওয়ার আগেই এই বিশেষ কান্নাটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে বা হারিয়ে যায়। অনেক অভিভাবক ভাবেন সমস্যাটি সেরে গেছে, কিন্তু আসলে এটি সিন্ড্রোমটির একটি ধাপ মাত্র।

২. বিকাশগত মাইলফলক অর্জনে চরম ধীরগতি:

শিশু যখন ২ বছর বয়সে পৌঁছানোর পথে থাকে, তখন তার বসা, হামাগুড়ি দেওয়া বা দাঁড়ানোর মতো শারীরিক সক্ষমতাগুলো অর্জনে অস্বাভাবিক দেরি হয়। সমবয়সী অন্যান্য শিশুরা যখন হাঁটতে শুরু করে, ক্রি ডু চ্যাট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত শিশুরা তখন কেবল মাথা সোজা করে রাখার শক্তি সঞ্চয় করে। এই ধীরগতিটি ২ বছর পূর্ণ হওয়ার অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৩. খাবার গ্রহণে অনীহা ও চিবানোর সমস্যা:

২ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই দেখা যায় এই শিশুরা শক্ত খাবার বা সাধারণ খাবার গিলতে (Swallowing) এবং চিবোতে চরম সমস্যায় পড়ছে। তাদের চোয়ালের পেশীগুলো খুব দুর্বল (Hypotonia) থাকে, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে খাবার মুখে নিয়ে বসে থাকা বা বারবার বমি করার প্রবণতা দেখা যায়।

৪. শরীরের গঠন ও মুখমণ্ডলের বিশেষ পরিবর্তন (Moon Face):

সিন্ড্রোমটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার আগে শিশুর মুখমণ্ডল অস্বাভাবিক গোলাকার বা ‘চাঁদের মতো’ (Moon face) দেখায়। এছাড়া দুই চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি (Hypertelorism) মনে হতে পারে এবং কানের অবস্থান কিছুটা নিচের দিকে হতে পারে। ২ বছর বয়সের পর এই গোলাকার মুখ আবার লম্বাটে হতে শুরু করে, তাই এই প্রাথমিক পরিবর্তনটি চিনে রাখা জরুরি।

৫. অতিরিক্ত লালা ঝরা ও ঘন ঘন সংক্রমণ:

এই শিশুরা ২ বছর বয়সের আগে থেকেই প্রচুর পরিমাণে লালা ঝরাতে থাকে (Drooling)। এর পাশাপাশি তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় বারবার শ্বাসকষ্ট বা কানের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

চিকিৎসা ও করণীয়

ক্রি ডু চ্যাট সিন্ড্রোমের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই, কারণ এটি একটি ক্রোমোজোম ঘটিত সমস্যা। তবে লক্ষণগুলো আগেভাগে শনাক্ত করতে পারলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়:

  • ফিজিওথেরাপি: পেশীর দুর্বলতা কাটিয়ে শিশুকে হাঁটতে বা বসতে সাহায্য করার জন্য।

  • স্পিচ থেরাপি: যেহেতু এই শিশুদের কথা বলতে দেরি হয়, তাই অঙ্গভঙ্গি বা বিশেষ থেরাপির মাধ্যমে যোগাযোগ শেখানো হয়।

  • জেনেটিক কাউন্সেলিং: পরিবারের পরবর্তী সন্তানদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি কতটুকু তা বুঝতে বাবা-মায়ের জেনেটিক পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

কেন দ্রুত শনাক্তকরণ প্রয়োজন?

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু জন্মের ২ বছরের মধ্যে নিবিড় থেরাপি এবং সঠিক পুষ্টি পায়, তাদের সামাজিক দক্ষতা এবং বুদ্ধিগত বিকাশ অন্যদের তুলনায় অনেক উন্নত হয়। যদিও এটি একটি চ্যালেঞ্জিং যাত্রা, তবে সঠিক যত্নে এই শিশুরা একটি হাসিখুশি জীবন অতিবাহিত করতে পারে।

Leave A Comment