ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি একটি জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ঠিকমতো কাজ করে না, তখন শরীর খুব সহজেই বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মূল রোগ ধরা পড়ার প্রায় এক বছর আগে থেকেই শরীর কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দিতে শুরু করে।
এই লক্ষণগুলো সময়মতো চিনতে পারলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। নিচে ইমিউনোডেফিসিয়েন্সির এমন ৫টি লক্ষণ আলোচনা করা হলো যা রোগ শনাক্ত হওয়ার অনেক আগেই শরীরে দেখা দিতে পারে:
১. বারবার সাইনাস ও কানের ইনফেকশন
একজন সুস্থ মানুষের বছরে একবার বা দুইবার সর্দি-কাশি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার যদি বছরে ৪ বার বা তার বেশি কানের ইনফেকশন হয় অথবা বছরে অন্তত ২ বার গুরুতর সাইনাস ইনফেকশন (Sinusitis) দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। ইমিউনোডেফিসিয়েন্সির রোগীদের ক্ষেত্রে এই ইনফেকশনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সাধারণ ওষুধে সহজে ভালো হতে চায় না।
২. অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করা
সাধারণত কোনো সংক্রমণের জন্য চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু যাদের ইমিউন সিস্টেমে জটিলতা দানা বাঁধছে, তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই মাস বা তার বেশি সময় অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও ইনফেকশন পুরোপুরি সারছে না। সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে যদি বারবার শিরায় (Intravenous) অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার একটি বড় আগাম সংকেত।
৩. অকারণে ওজন হ্রাস ও হজমের সমস্যা
শরীরের ৭০ শতাংশ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা গাটের (Gut) সাথে যুক্ত। ইমিউনোডেফিসিয়েন্সির প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, পেটে খিঁচুনি এবং হজমের সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে শরীরের পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা কমে যায় এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন দ্রুত কমতে শুরু করে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সঠিক বৃদ্ধি বা ওজন না বাড়া (Failure to thrive) একটি আশঙ্কাজনক লক্ষণ।
৪. ত্বকে বারবার গভীর ফোঁড়া ও ছত্রাক সংক্রমণ
ত্বক হলো শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে ত্বকে বারবার গভীর ফোঁড়া (Abscesses) বা পুঁজ হওয়া ক্ষত দেখা দেয়। এছাড়া মুখে বা জিভে সাদা আস্তরণ বা ‘থ্রাশ’ (Thrush) এবং নখে বা ত্বকে নাছোড়বান্দা ছত্রাক সংক্রমণ (Fungal infection) হওয়া ইমিউন সিস্টেমের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। এগুলো সাধারণত শরীর যখন প্রাকৃতিকভাবে জীবাণু মোকাবিলা করতে পারে না, তখনই ঘটে।
৫. ক্ষত শুকাতে অস্বাভাবিক দেরি হওয়া
আমাদের শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে বা পুড়লে রক্তকণিকাগুলো দ্রুত সেই ক্ষত মেরামত করতে শুরু করে। কিন্তু ইমিউনোডেফিসিয়েন্সির শিকার ব্যক্তিদের শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার ঘাটতি থাকায় এই মেরামতের কাজ ধীর হয়ে যায়। সাধারণ ছোটখাটো ক্ষত শুকাতে যদি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে, তবে বুঝতে হবে শরীরের ভেতর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
প্রতিরক্ষায় আপনার করণীয়
ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি অনেক সময় বংশগত কারণে (Primary) হতে পারে, আবার ভুল জীবনধারা বা অন্য রোগের প্রভাবে (Secondary) হতে পারে। যদি আপনার শরীরে উপরোক্ত লক্ষণগুলো এক বছর ধরে পরিলক্ষিত হয়, তবে বিলম্ব না করে একজন ইমিউনোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
