x
d o c t o r s 2 4
যে যে লক্ষণের কারণে শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না!
20 Feb

ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাবজনিত রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘কমন ভ্যারিয়েবল ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি’ বা CVID। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীর বারবার বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের চূড়ান্ত লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত পাঠাতে শুরু করে। এই সংকেতগুলো চিনে নিলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

CVID কি এবং এটি কেন জটিল?

CVID হলে রক্তে IgG, IgA এবং কখনও কখনও IgM অ্যান্টিবডির মাত্রা অনেক কমে যায়। এটি সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে বেশি শনাক্ত হয়, তবে শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি দেখা দিতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি ফুসফুস এবং পরিপাকতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

রোগ শনাক্তের ৬ মাস আগে যে ৭টি লক্ষণ দেখা দেয়

নিচে CVID-এর ৭টি প্রাথমিক সতর্কবার্তা তুলে ধরা হলো যা রোগ পূর্ণরূপে বিকাশের আগে দেখা যায়:

১. শ্বাসতন্ত্রের বারবার সংক্রমণ (Recurrent Sinopulmonary Infections):

CVID-এর সবচেয়ে বড় সংকেত হলো বারবার সাইনাস, ব্রঙ্কাইটিস বা কানের ইনফেকশন। দেখা যায়, ৬ মাসের ব্যবধানে আপনি ২-৩ বার তীব্র শ্বাসকষ্ট বা সাইনাসের যন্ত্রণায় ভুগছেন যা সাধারণ সর্দি-জ্বর নয়।

২. অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সেও সুস্থ না হওয়া:

সাধারণত একটি অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করলে শরীরের সংক্রমণ দূর হয়। কিন্তু যাদের CVID দানা বাঁধছে, তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই মাস অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরও ইনফেকশন পুরোপুরি সারছে না বা ওষুধ বন্ধ করার কয়েকদিন পরেই আবার সংক্রমণ ফিরে আসছে।

৩. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অবসাদ (Chronic Fatigue):

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি আপনি অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন, তবে এটি শরীরের দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের সংকেত হতে পারে। শরীর যখন অ্যান্টিবডির অভাবে সারাক্ষণ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাধ্য হয়, তখন শরীরের শক্তি ফুরিয়ে যায়।

৪. হজমের সমস্যা ও পুষ্টিহীনতা (Gastrointestinal Issues):

CVID সরাসরি আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। ৬ মাস আগে থেকেই আপনার পেটে ব্যথা, বারবার পেট খারাপ (Chronic Diarrhea), অথবা খাবার থেকে পুষ্টি শোষণ করতে না পারার সমস্যা (Malabsorption) দেখা দিতে পারে।

৫. অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস:

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করেও যদি হঠাৎ করে ওজন কমতে শুরু করে, তবে তা চিন্তার বিষয়। CVID-এর কারণে হওয়া পেটের ইনফেকশন শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করে, ফলে দ্রুত ওজন কমে যায়।

৬. ফোলা লিম্ফ নোড বা প্লীহা (Enlarged Lymph Nodes/Spleen):

গলার চারপাশ, বগল বা কুঁচকির লিম্ফ নোডগুলো যদি দীর্ঘদিন ফুলে থাকে এবং না সারে, তবে তা ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিকতার লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা শরীরের ভেতর প্লীহা (Spleen) বড় হয়ে যাওয়ার প্রমাণও পান।

৭. অটোইমিউন ডিসঅর্ডারের লক্ষণ:

CVID আক্রান্ত রোগীদের ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে শরীর নিজের সুস্থ কোষকেই আক্রমণ করতে শুরু করে। ৬ মাস আগে থেকে জয়েন্টে ব্যথা (Arthritis), ত্বকে লালচে ছোপ (Rashes), বা রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রতিরক্ষা এবং করণীয়

CVID একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ হলেও আধুনিক চিকিৎসা যেমন ইমিউনোগ্লোবুলিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (Ig Replacement Therapy) এর মাধ্যমে রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারো মধ্যে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে এই লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে দেরি না করে একজন ইমিউনোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন এবং শরীরের ইমিউনোগ্লোবুলিন লেভেল পরীক্ষা করান।

Leave A Comment