ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস একটি গুরুতর মেডিকেল কন্ডিশন, যা রক্তে অতিরিক্ত ল্যাকটিক অ্যাসিড জমার ফলে ঘটে। এটি সাধারণত তখনই হয় যখন শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় বা শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা ভেঙে শক্তি তৈরি করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে মেটফরমিন জাতীয় ডায়াবেটিসের ওষুধ, লিভারের সমস্যা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে এই অবস্থা তৈরি হয়।
ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস হঠাৎ করে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার প্রায় ৩ দিন আগে থেকেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে শুরু করে। এই সংকেতগুলো চিনে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।
ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর ৩ দিন আগের ৪টি লক্ষণ
১. মাংসপেশিতে অস্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী জ্বালাপোড়া (Muscle Burning)
ব্যায়াম করলে পেশিতে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমা হওয়া স্বাভাবিক, যা বিশ্রামে সেরে যায়। কিন্তু ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের ক্ষেত্রে ৩ দিন আগে থেকেই কোনো ভারী কাজ না করেও হাত-পা বা পিঠের পেশিতে এক ধরণের কামড়ানো বা জ্বালাপোড়া ভাব শুরু হয়। এটি মূলত রক্তে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকার একটি প্রাথমিক বহিঃপ্রকাশ। পেশিগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দুর্বল এবং ভারী মনে হতে পারে।
২. অগভীর ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস (Shallow Breathing)
রক্তে যখন অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকে, শরীর তখন কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দিয়ে রক্তের pH ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে। এর ফলে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস পূর্ণরূপে প্রকাশ পাওয়ার ৩ দিন আগে থেকেই রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা দ্রুত এবং অগভীর হতে শুরু করে। রোগী হয়তো বুঝতে পারেন না যে তার দম ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু সামান্য হাঁটাহাঁটি বা কথা বলতেই তিনি হাঁপিয়ে ওঠেন।
৩. পেট ফাঁপা ও হজমে আকস্মিক গোলযোগ
ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের একটি কম পরিচিত লক্ষণ হলো পেটে অস্বস্তি। ৩ দিন আগে থেকেই রোগীর বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা বা খাওয়ার পর পেটে ভারি ভাব অনুভূত হতে পারে। এটি ঘটে কারণ রক্তে অ্যাসিডের আধিক্য পাকস্থলীর স্বাভাবিক পরিপাক ক্রিয়াকে মন্থর করে দেয়। অনেক সময় রোগী একে সাধারণ অ্যাসিডিটি ভেবে ভুল করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
৪. মানসিক বিভ্রান্তি ও ঝিমুনি ভাব (Disorientation)
রক্তে অ্যাসিডের ভারসাম্য নষ্ট হলে মস্তিষ্কের কোষে অক্সিজেনের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ৩ দিন আগে থেকেই রোগীর মধ্যে একাগ্রতার অভাব, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়া বা সারাক্ষণ ঝিমুনি ভাব দেখা দিতে পারে। যদি দেখেন আপনার পরিচিত কেউ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উদাসীন হয়ে পড়ছেন বা ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাচ্ছেন, তবে এটি ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের একটি স্নায়বিক সংকেত হতে পারে।
ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস প্রতিরোধে করণীয়
ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস একটি জটিল অবস্থা হলেও সচেতন থাকলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা নিয়মিত মেটফরমিন জাতীয় ওষুধ সেবন করেন বা যাদের কিডনি ও লিভারের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি:
-
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে হাইড্রেটেড থাকা অত্যন্ত জরুরি।
-
অ্যালকোহল বর্জন: অতিরিক্ত মদ্যপান ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
-
নিয়মিত চেকআপ: লিভার এবং কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা (LFT/KFT) নিয়মিত করানো উচিত।
-
ওষুধের ডোজ: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিসের ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করবেন না।
কখন জরুরি সাহায্য নেবেন?
যদি ৩ দিনের এই লক্ষণগুলোর পর হঠাৎ করে প্রচণ্ড পেটে ব্যথা, শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা নিঃশ্বাসে ফলের মতো গন্ধ পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে অবস্থা সংকটাপন্ন। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
