x
d o c t o r s 2 4
কীভাবে বুঝবেন রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেছে?
22 Feb

হাইপারন্যাট্রেমিয়া বা রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। শরীরের কোষ থেকে জল বের হয়ে যাওয়ার ফলে সোডিয়ামের ঘনত্ব বেড়ে গেলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার আগেই শরীর কিছু সংকেত দেয়।

যখন রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে (১৪৫ mEq/L) বেশি হয়ে যায়, তখন তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপারন্যাট্রেমিয়া (Hypernatremia) বলা হয়। এটি মূলত পানিশূন্যতা বা অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে ঘটে। শরীর এই গুরুতর অবস্থায় পৌঁছানোর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে কিছু প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ করতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ৪টি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি:

১. তীব্র এবং অস্বাভাবিক তৃষ্ণা (Extreme Thirst)

হাইপারন্যাট্রেমিয়ার সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রথম লক্ষণ হলো অসহনীয় তৃষ্ণা। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যখন রক্তে সোডিয়াম বাড়ে, মস্তিষ্ক তখন সংকেত দেয় যে শরীর পানিশূন্য এবং আরও জল প্রয়োজন। সাধারণ তৃষ্ণার চেয়ে এটি অনেক বেশি তীব্র হয় এবং জল পান করার পরেও তৃষ্ণা মেটে না।

২. পেশির দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি (Muscle Weakness and Fatigue)

রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হলে কোষগুলো সংকুচিত হতে শুরু করে। এর ফলে পেশি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়। হাইপারন্যাট্রেমিয়া শুরু হওয়ার আগের দিন আপনি অনুভব করতে পারেন যে হাত-পা নড়াচড়া করতে কষ্ট হচ্ছে বা সামান্য পরিশ্রমেও শরীর ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। একে অনেক সময় ‘অলসতা’ বা ‘লেথারজি’ বলা হয়।

৩. মেজাজের পরিবর্তন ও অস্থিরতা (Irritability and Restlessness)

মস্তিষ্কের কোষগুলো সোডিয়ামের পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। রক্তে লবণের মাত্রা বেড়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ থেকে জল বেরিয়ে আসে, যার ফলে স্নায়বিক উত্তেজনা তৈরি হয়। এর ফলে রোগী অকারণে খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি (Confusion) বোধ করতে পারে। আপনার যদি হঠাৎ করে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয় বা অকারণে বিরক্ত লাগে, তবে এটি লবণের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।

৪. প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং গাঢ় রং (Reduced and Dark Urine)

কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করার এবং জল ধরে রাখার চেষ্টা করে। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং প্রস্রাবের রং অনেকটা গাঢ় হলুদ বা চা-এর মতো হয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রস্রাবের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তবে বুঝতে হবে শরীর মারাত্মক হাইপারন্যাট্রেমিয়ার দিকে যাচ্ছে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

  • বয়স্ক ব্যক্তি: বয়স বাড়লে তৃষ্ণার বোধ কমে যায়, ফলে তারা অজান্তেই পানিশূন্যতায় ভোগেন।

  • শিশু: বিশেষ করে যারা পর্যাপ্ত জল পান করতে পারে না বা যারা ডায়রিয়ায় ভুগছে।

  • কিডনি রোগী: যাদের কিডনি সোডিয়াম ফিল্টার করতে অক্ষম।

  • ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস: একটি বিশেষ হরমোনাল সমস্যা যা শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বের করে দেয়।

প্রতিরোধে করণীয়

হাইপারন্যাট্রেমিয়া প্রতিরোধে নিয়মিত বিরতিতে জল পান করা এবং খাদ্যে লবণের পরিমাণ সীমিত রাখা জরুরি। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়ামের সময় শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে। যদি ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দেয় এবং সাথে বমি ভাব বা মাথাব্যথা শুরু হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।

 

Leave A Comment