x
d o c t o r s 2 4
ভিটামিন সি-এর অভাব হওয়ার ৩ মাস আগেই শরীর দেয় এই ৫টি সংকেত
23 Feb

ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। এটি কোলাজেন তৈরি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং আয়রন শোষণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। যেহেতু ভিটামিন C জলে দ্রবণীয়, তাই শরীর এটি দীর্ঘক্ষণ জমা রাখতে পারে না।

ফলস্বরূপ, যখনই শরীরে এর ঘাটতি তৈরি হতে শুরু করে, তখন চূড়ান্ত পর্যায় বা ‘স্কার্ভি’ (Scurvy) রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্তত ৩ মাস আগে থেকেই শরীর কিছু সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে।

সুস্থ থাকার জন্য আমরা অনেক সময় দামি সাপ্লিমেন্টের পেছনে ছুটি, কিন্তু হাতের কাছে থাকা লেবু বা আমলকীর ভিটামিন C-এর গুরুত্ব ভুলে যাই। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ভিটামিন C-এর ভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ ধীর। এই ঘাটতি পূর্ণ মাত্রায় পৌঁছানোর প্রায় ৯০ দিন বা ৩ মাস আগে থেকেই ত্বক, মাড়ি এবং শক্তির মাত্রায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এই সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো চিনতে পারলে অকাল বার্ধক্য এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ভিটামিন সি ঘাটতির ৩ মাস আগে যে ৫টি লক্ষণ প্রকট হয়:

১. ত্বকের উপরিভাগে লালচে ছোট দানা (Chicken Skin)

ভিটামিন C কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। যখন এর অভাব শুরু হয়, তখন লোমকূপের চারপাশে কেরাটিন প্রোটিন জমে গিয়ে ছোট ছোট লালচে বা খসখসে দানা তৈরি হয়। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘ফলিকুলার কেরাটোসিস’ বলা হয়। ৩ মাস আগে থেকেই হাত বা উরুর পেছনের দিকের ত্বক মুরগির চামড়ার মতো অমসৃণ হতে শুরু করলে বুঝবেন আপনার শরীরে ভিটামিন C-এর জোগান কমছে।

২. মাড়ি থেকে সামান্য রক্তপাত ও ফোলা ভাব

ভিটামিন C-এর অভাবের অন্যতম ধ্রুব সংকেত হলো মাড়ির দুর্বলতা। ব্রাশ করার সময় বা শক্ত কোনো ফল (যেমন আপেল) খাওয়ার সময় যদি মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়, তবে এটি সতর্কবার্তা। কোলাজেনের অভাবে মাড়ির টিস্যুগুলো ঢিলে হয়ে যায় এবং রক্তনালীগুলো সহজে ফেটে যায়। এটি অবহেলা করলে পরবর্তীতে দাঁত নড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩. অকারণে কালশিটে পড়া (Easy Bruising)

শরীরে কোথাও আঘাত পাননি, অথচ হাত বা পায়ে কালশিটে দাগ দেখা দিচ্ছে? এটি ভিটামিন C ঘাটতির একটি বড় লক্ষণ। রক্তনালীগুলো শক্তিশালী রাখতে এই ভিটামিন প্রয়োজন। এর অভাবে রক্তনালীর দেয়াল পাতলা হয়ে যায় এবং চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয়ে কালচে বা নীলচে দাগ পড়ে যায়। এটি ঘাটতি শুরু হওয়ার ২-৩ মাসের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়।

৪. ক্ষত শুকাতে অস্বাভাবিক সময় লাগা

শরীরের কোনো ক্ষত বা কাটা স্থান যদি সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে না শুকায়, তবে তা ভিটামিন C-এর অভাবের সংকেত হতে পারে। নতুন টিস্যু তৈরিতে কোলাজেন অপরিহার্য। ৩ মাস আগে থেকেই আপনি লক্ষ্য করবেন যে ছোটখাটো চোট বা ক্ষত আগের চেয়ে অনেক ধীরগতিতে সারছে।

৫. জয়েন্টে ব্যথা এবং ফোলা ভাব (Joint Pain)

যেহেতু হাড়ের সংযোগস্থলের কার্টিলেজ তৈরিতে ভিটামিন C প্রয়োজন, তাই এর অভাবে জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা শুরু হতে পারে। কোনো ভারী কাজ না করেও যদি গত কয়েক মাস ধরে হাঁটু বা কবজিতে অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে এটি ক্যালসিয়ামের নয় বরং ভিটামিন C-এর অভাব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন C-এর অভাব শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। অভাব শুরু হওয়ার প্রাথমিক মাসগুলোতে মানুষ অতিরিক্ত মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগের অভাব এবং হঠাত বিষণ্ণতায় (Depression) ভুগতে পারে। অনেক সময় আমরা একে স্ট্রেস মনে করি, কিন্তু এটি আসলে পুষ্টির অভাব।

ঘাটতি মেটানোর সহজ উপায়

ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ করা খুব সহজ কারণ এটি সাধারণ সবজি ও ফলে প্রচুর থাকে:

  • টক জাতীয় ফল: লেবু, কমলা, মাল্টা এবং জাম্বুরা।

  • সেরা উৎস: আমলকী (এতে কমলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি ভিটামিন C থাকে)।

  • সবজি: কাঁচা লঙ্কা, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি এবং পালং শাক।

টিপস: ভিটামিন সি তাপে নষ্ট হয়ে যায়, তাই পুষ্টি পেতে এগুলো কাঁচা বা হালকা ভাপিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

Leave A Comment