ভিটামিন B1, যার বৈজ্ঞানিক নাম থায়ামিন, শরীরের শক্তি উৎপাদন ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। আমরা যে কার্বোহাইড্রেটজাত খাবার খাই, তা শক্তিতে রূপান্তর করতে থায়ামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ভিটামিনের ঘাটতি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে বেরিবেরি রোগ, স্নায়ুর ক্ষতি এমনকি হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার অন্তত এক মাস আগে শরীর কিছু সূক্ষ্ম সতর্কবার্তা দেয়। সচেতন না হলে এই লক্ষণগুলো সহজেই উপেক্ষিত হয়। নিচে ভিটামিন B1 ঘাটতির সম্ভাব্য ৬টি প্রাথমিক লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা
থায়ামিন শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর অভাবে শরীরের কোষ পর্যাপ্ত শক্তি পায় না। ফলে সামান্য কাজেই ক্লান্তি, অবসাদ এবং সারাদিন শক্তিহীন লাগা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাব মনে করেন।
২. ক্ষুধামন্দা ও ওজন হ্রাস
ভিটামিন B1 হজম প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ঘাটতি হলে ক্ষুধা কমে যায়, খাবারে অনীহা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে ওজন কমতে শুরু করে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
৩. হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব
থায়ামিন স্নায়ুর সুরক্ষা ও সংকেত পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটতি হলে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এতে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, জ্বালাপোড়া বা অবশ অনুভূতি হতে পারে। এটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত।
৪. মেজাজের পরিবর্তন ও খিটখিটে ভাব
স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব পড়লে আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অকারণ বিরক্তি, মনোযোগে ঘাটতি, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া বা হালকা বিষণ্নতা—এসব লক্ষণ এক মাস আগেই প্রকাশ পেতে পারে।
৫. পেশিতে দুর্বলতা ও টান
শক্তি উৎপাদন কমে গেলে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। হাঁটতে কষ্ট হওয়া, সিঁড়ি ভাঙতে সমস্যা বা পেশিতে টান ধরা—এসব উপসর্গ অনেক সময় প্রথম দিকে দেখা যায়।
৬. হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট
গুরুতর ঘাটতির আগেই হৃদ্যন্ত্রে চাপ পড়তে পারে। বুক ধড়ফড় করা, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ‘ওয়েট বেরিবেরি’ নামে হৃদ্রোগজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
- দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি
- অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনকারী
- ডায়াবেটিস বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত মানুষ
- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা
- প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত পালিশ করা চাল বেশি খাওয়া ব্যক্তি
প্রতিরোধে করণীয়
- সুষম খাদ্য গ্রহণ (বাদাম, ডাল, লাল চাল, গোটা শস্য, ডিম)
- অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়ানো
- দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা স্নায়বিক সমস্যায় রক্ত পরীক্ষা করা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন B1 ঘাটতি ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলে, কিন্তু শুরুতেই লক্ষণগুলো ধরা পড়লে বড় জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
