x
d o c t o r s 2 4
19 Aug

গ্রীষ্মের তাপ আর বর্ষার আর্দ্রতায় ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ঋতুর বাইরে, বিশেষ করে রাতে, যদি অতিরিক্ত ঘামে আপনি অস্বস্তিতে পড়েন, তবে এটিকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ঘাম কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। সময়মতো এর কারণ জানা থাকলে চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আজকের এই নিবন্ধে আমরা জানবো, কোন কোন রোগের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে এবং কীভাবে এর সমাধান করা যায়।

কোন রোগের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হয়?

১. অতিরিক্ত সক্রিয় থাইরয়েড (হাইপারথাইরয়েডিজম)
থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়, যা অতিরিক্ত ঘামের অন্যতম কারণ। এই সমস্যা মেনোপজ, ডায়াবেটিস, এমনকি হৃদরোগের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। যদি আপনার শরীরে ঘন ঘন ঘাম হয়, তবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো উচিত।

২. ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘাম হওয়া (নাইট সোয়েটস) ডায়াবেটিসের একটি সাধারণ লক্ষণ। আপনার যদি এই সমস্যা থাকে, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি।

৩. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
মানসিক চাপ কেবল মনের উপরই প্রভাব ফেলে না, শরীরের উপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত স্ট্রেস বা উদ্বেগের কারণে শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা ঘামের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ধ্যান, যোগব্যায়াম বা কাউন্সেলিং এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

৪. স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা
স্নায়ুতন্ত্রের কোনো ব্যাধি, যেমন পারকিনসন রোগ বা স্নায়বিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে ঘাম সাধারণত শরীরের নির্দিষ্ট অংশে বেশি হয়, যেমন হাত, পা বা মাথা। এমন লক্ষণ দেখা দিলে একজন নিউরোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

৫. অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ

  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: বিশেষ করে মহিলাদের মেনোপজ বা পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
  • সংক্রমণ: টিবি বা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণেও রাতে ঘাম হতে পারে।
  • ক্যানসার: কিছু ক্ষেত্রে, লিম্ফোমার মতো ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত ঘাম দেখা দিতে পারে।

যদি আপনার অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা থাকে, তবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিন:

  • চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: রক্ত পরীক্ষা, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।
  • জীবনযাত্রার পরিবর্তন: হালকা পোশাক পরুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: যোগব্যায়াম, ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন এবং ক্যাফেইন গ্রহণ কমান।

অতিরিক্ত ঘামকে হালকাভাবে নেবেন না। এটি আপনার শরীরের দেওয়া একটি সংকেত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Leave A Comment