পিরিয়ড বা মাসিক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা জরায়ুর আস্তরণ ঝরে যাওয়ার ফলে রক্তপাতের মাধ্যমে ঘটে। এটি সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে শুরু হয়, তবে কিছু মেয়ের ক্ষেত্রে ১৩ বছরের আগেও পিরিয়ড শুরু হতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে পিরিয়ড শুরু হওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। আসুন জেনে নিই এই গবেষণার বিস্তারিত এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়।
অল্প বয়সে পিরিয়ড এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি
২০-৬৫ বছর বয়সী ১৭,০০০ নারীর উপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ১৩ বছর বয়সের আগে পিরিয়ড শুরু হয়, তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এছাড়া, যাদের ১০ বছর বয়সের আগে পিরিয়ড শুরু হয় এবং ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সের আগে স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এই ঝুঁকির সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও, হরমোনাল পরিবর্তন এবং শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়
যদিও পিরিয়ড শুরুর সময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গ্রহণ করা যায়:
- পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং জাঙ্ক ফুড ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি (যেমন, পালং শাক, ব্রকোলি), ফল (যেমন, আমলকি, কমলালেবু), দই, দুধ এবং আঁশযুক্ত খাবার (যেমন, ওটস, মুগ ডাল) যোগ করুন। ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। - নিয়মিত ব্যায়াম
প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম স্থূলতা কমায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়াতেও সহায়তা করে। - ওজন নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের একটি বড় ঝুঁকির কারণ। সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন। - নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে যদি আপনার পিরিয়ড অল্প বয়সে শুরু হয়ে থাকে। প্রাথমিক সনাক্তকরণ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
অল্প বয়সে পিরিয়ড শুরু হওয়া ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ালেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
