x
d o c t o r s 2 4
Osteoporosis
22 Oct

হাড়ের নীরব শত্রু অস্টিওপরোসিস—এই রোগটি অনেক সময় চুপচাপ শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে, যতক্ষণ না হঠাৎ ভেঙে পড়ে হাড়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ৫০ বছরের উপরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে ভুগছেন, যার মধ্যে নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। কিন্তু ভালো খবর হলো, এর এক বছর আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়। যদি এখনই সতর্ক হয়ে ওঠা যায়, তাহলে রোগের তীব্রতা কমানো যায় এবং ভাঙনের ঝুঁকি অনেকটা হ্রাস পায়। চিকিৎসকদের মতে, অস্টিওপরোসিসকে ‘নীরব রোগ’ বলা হয় কারণ এর লক্ষণ সাধারণত শেষ পর্যায়ে দেখা দেয়, কিন্তু প্রাথমিক সতর্কতা জেনে নেওয়া গেলে জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত করা সম্ভব।

অস্টিওপরোসিস হলো হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার একটি অবস্থা, যা হাড়গুলোকে ভঙ্গুর করে তোলে। এতে কব্জি, মেরুদণ্ড বা কোমরের হাড় সহজেই ভেঙে যেতে পারে। মেনোপজের পর নারীদের মধ্যে এর প্রকোপ বেড়ে যায়, কারণ ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রেও টেস্টোস্টেরনের অভাব এর কারণ হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং অনেক সময় এক বছর আগে থেকেই সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা দেয়। মায়ো ক্লিনিক এবং ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতো প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, অস্টিওপেনিয়া—যা অস্টিওপরোসিসের পূর্বসূচক—এই পর্যায়ে শরীর সতর্কতা দেয়। আসুন, জেনে নিই সেই ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ কী কী, যা এক বছর আগে থেকেই লক্ষ করলে চিকিৎসা শুরু করে রোগের গতি থামানো যায়।

১. দাঁতের মাড়ির পিছিয়ে যাওয়া (Receding Gums)

অস্টিওপরোসিসের প্রথম সংকেতগুলোর মধ্যে একটি হলো দাঁতের মাড়ি অস্বাভাবিকভাবে পিছিয়ে যাওয়া। হাড়ের ঘনত্ব কমলে চোয়ালের হাড়ও দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে দাঁতের গোড়ার অংশ উন্মুক্ত হয়ে যায়। হেলথলাইনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের উপরের নারীদের মধ্যে যাদের মাড়ি পিছিয়ে যাচ্ছে, তাদের ৩০% ক্ষেত্রে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি সাধারণত ব্রাশ করার সময় রক্তপাত বা দাঁতের সংবেদনশীলতা বাড়ার সাথে যুক্ত। যদি আপনার দাঁতের চিকিৎসক এমন কিছু লক্ষ্য করেন, তাহলে অবিলম্বে অস্টিওপরোসিসের স্ক্যান করান। এই লক্ষণটি এক বছর আগে দেখা দিলে, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করে হাড়ের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

২. হাতের গ্রিপ স্ট্রেংথ কমে যাওয়া (Weakened Grip Strength)

হাতের শক্তি হঠাৎ কমে যাওয়া—যেমন জিনিসপত্র ধরতে অসুবিধা হওয়া—অস্টিওপরোসিসের আরেকটি প্রাথমিক সংকেত। ভেরিওয়েল হেলথের রিপোর্ট অনুসারে, গ্রিপ স্ট্রেংথের মাত্রা ২০% কমলে হাড়ের ঘনত্বও সমানভাবে হ্রাস পায়। এটি পেশী এবং হাড়ের মধ্যে সংযোগের কারণে ঘটে। বিশেষ করে, ৪০-৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হোন। একটি সাধারণ পরীক্ষা হলো: একটি হ্যান্ডগ্রিপ ডিভাইস দিয়ে চাপ দিন; যদি আগের চেয়ে কম হয়, তাহলে ডেনসিটি টেস্ট করান। এই সতর্কতা নিলে ওয়েট ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে হাড় মজবুত করা যায় এবং ভবিষ্যতে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি কমে।

৩. নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া (Brittle Fingernails)

নখগুলো সহজে ভেঙে যাওয়া বা পাতলা হয়ে যাওয়া অস্টিওপরোসিসের সূক্ষ্ম লক্ষণ। মেডিকেল নিউজ টুডের গবেষণায় বলা হয়েছে, নখের কেরাটিন প্রোটিন হাড়ের কোলাজেনের মতোই গঠিত, তাই হাড়ের ক্ষয় নখকেও প্রভাবিত করে। এটি এক বছর আগে শুরু হলে, প্রোটিন এবং বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে উন্নতি আনা যায়। কিন্তু এটি উপেক্ষা করলে হাড়ের সমস্যা তীব্র হয়। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ মেনোপজের আগে দেখা দেয়, যা হরমোনাল পরিবর্তনের সাথে যুক্ত।

৪. অকারণে কোমর বা পিঠে ব্যথা (Unexplained Back Pain)

পিঠ বা কোমরে অকারণে ব্যথা হওয়া—যা সকালে বেশি হয়—অস্টিওপরোসিসের আরেকটি সতর্কতা। উইকিপিডিয়া এবং এএআরপির তথ্য অনুসারে, মেরুদণ্ডের হাড়ের সূক্ষ্ম ভাঙন এর কারণ। এটি এক বছর আগে শুরু হলে, ফিজিওথেরাপি এবং ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই লক্ষণ উপেক্ষা করলে স্টপড পোসচার (ঝুঁকে পড়া) হয়ে যায়।

এই লক্ষণগুলো দেখলে অবিলম্বে ডেনসিটি স্ক্যান (DEXA) করান। প্রতিরোধের জন্য দৈনিক ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ওয়েট-বেয়ারিং এক্সারসাইজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave A Comment