x
d o c t o r s 2 4
06 Dec

অ্যানিউরিজম হলো রক্তনালীর অস্বাভাবিক ফোলা বা দুর্বলতা, যা সময়মতো শনাক্ত না করলে জীবনঘাতী হতে পারে। সাধারণত এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফোটা বা বিস্ফোরণ ঘটার প্রায় ১ মাস আগে শরীর কিছু সতর্ক সংকেত পাঠাতে শুরু করে। এই আগাম লক্ষণগুলো চিহ্নিত করলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

নিচে অ্যানিউরিজম হওয়ার ১ মাস আগে দেখা দিতে পারে এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—

১) অনিয়মিত বা হঠাৎ মাথা ব্যথা

মাথার ধমনিতে অ্যানিউরিজমের প্রাথমিক ফোলা হলে অনেক সময়—

  • হালকা বা মাঝারি ধরণের মাথা ব্যথা
  • মাথার একপাশে চাপ বা ভারসাম্যহীন অনুভূতি
  • কখনও কখনও চোখের চারপাশে বা কপালে অস্বস্তি

এই ব্যথা সাধারণ মাথাব্যথার মতো মনে হলেও, এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং এক মাসের মধ্যে বেশি তীব্র হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অল্প ব্যথা হলেও নিয়মিত বা বারবার পুনরাবৃত্তি হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

২) হঠাৎ চক্ষু বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন

অ্যানিউরিজমের ফলে মস্তিষ্কের কোনো অংশে চাপ পড়লে চোখের ওপর প্রভাব পড়তে পারে—

  • চোখের সামনে ঝাপসা বা ডাবল ভিশন
  • হালকা ধূসর ছায়া বা আলোর ঝলকানি দেখা
  • চোখের পাপিলে চাপ বা অস্বস্তি

প্রাথমিকভাবে এটি সাময়িক হলেও, অ্যানিউরিজম ফেটে গেলে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই চোখে এমন অস্বাভাবিকতা অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩) গলার বা কাঁধে ব্যথা ও সংবেদনশীলতা

অ্যানিউরিজম কখনও কখনও কোমরের ধমনায় বা কণ্ঠের নিকটবর্তী ধমনায় হতে পারে। প্রাথমিক সতর্কতার সময়—

  • গলার বা কাঁধের হালকা ব্যথা
  • শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বস্তি
  • কখনও হাত বা কাঁধে ঝিনঝিনি অনুভূতি

এই ধরনের ব্যথা সাধারণভাবে স্ট্রেস বা পেশির সমস্যার সঙ্গে মিশে যায়, কিন্তু একমাস আগে থেকে লক্ষ্য করলে আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব।

৪) রক্তচাপ বা হার্টবিটের অস্বাভাবিকতা

অ্যানিউরিজমের প্রাথমিক ধাপে হার্ট বা রক্তনালীর ফোলার কারণে—

  • হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
  • হৃদস্পন্দন অস্থির বা তীব্র অনুভূত হওয়া
  • হালকা মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার অনুভূতি

এগুলো প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়, কিন্তু অ্যানিউরিজমের আগে শরীরের সতর্কবার্তা হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

কেন আগেভাগে লক্ষণ দেখা দেয়?

অ্যানিউরিজম ধীরে ধীরে ধমনীর দেওয়ালে চাপ সৃষ্টি করে এবং—

  • রক্তপ্রবাহের অস্বাভাবিকতা
  • ধমনীর দুর্বলতা ও ফোলা
  • প্রাথমিক হালকা ক্ষয় বা টিস্যু চাপের কারণে শরীর প্রাথমিক সংকেত পাঠায়

এই প্রক্রিয়ার ফলে, বড় আঘাত বা ফাটার আগেও শরীর আগাম ইঙ্গিত দেয়।

লক্ষণ দেখা দিলে করণীয়

  • নিয়মিত রক্তচাপ এবং হার্ট মনিটর করা
  • মাথাব্যথা বা চোখের অস্বাভাবিকতা পর্যবেক্ষণ
  • হালকা ব্যথা বা ঝিনঝিনির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
  • জীবনধারায় পরিবর্তন—ধূমপান ও অতিরিক্ত চর্বি কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম
  • প্রয়োজনে ইমেজিং টেস্ট (CT Scan, MRI বা Ultrasound)

Leave A Comment