এন্ডোমেট্রিওসিস বাংলাদেশে নারীদের গর্ভধারণের স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু নতুন চিকিৎসা ও প্রযুক্তি আশার সঞ্চার করছে। এই রোগে জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পায়, যা ডিম্বাণুর গুণগত মান, ওভুলেশন এবং ইমপ্লান্টেশন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ইনফার্টিলিটি ভোগা নারীদের ২৫-৫০% এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত। তবে, ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) এবং অন্যান্য অ্যাডভান্সড চিকিৎসা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
এন্ডোমেট্রিওসিস গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করে কারণ এটি পেলভিক অঞ্চলে প্রদাহ, ওভারিয়ান সিস্ট এবং আঠালো টিস্যু তৈরি করে। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে পরীক্ষিত ১৫% নারীর এন্ডোমেট্রিওসিস ধরা পড়েছে, যার মধ্যে ৬০% ইনফার্টিলিটির সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগ ডিম্বাণু মুক্তি ও জরায়ুতে ভ্রূণের ইমপ্লান্টেশনকে কঠিন করে তোলে। তবে, আশার কথা হলো, বাংলাদেশে IVF এবং ওভুলেশন ইন্ডাকশনের মতো চিকিৎসা এখন আরও উপলব্ধ।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের ক্লিনিকগুলোতে, যেমন নোভা IVF ফার্টিলিটি সেন্টার, এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীদের জন্য বিশেষ IVF প্রোটোকল প্রয়োগ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, লেট্রোজোল এবং গোনাডোট্রপিন-রিলিজিং হরমোন (GnRH) অ্যাগোনিস্ট ব্যবহার করে IVF-এর সাফল্যের হার ৩৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু অপসারণ করে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৪০% বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশে গ্রীন লাইফ হসপিটাল এবং ইউনাইটেড হসপিটালে এই সার্জারি সুবিধা রয়েছে, যদিও খরচ এখনও অনেকের জন্য বড় বাধা।
নতুন একটি উদ্যোগে, বাংলাদেশ ফার্টিলিটি সোসাইটি ২০২৫ সালে এন্ডোমেট্রিওসিস-নির্দিষ্ট IVF সাবসিডি প্রোগ্রাম চালু করেছে, যা নিম্ন-আয়ের পরিবারের জন্য চিকিৎসার খরচ ৩০% কমাচ্ছে। এছাড়া, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজে AI-ভিত্তিক ডায়াগনস্টিক টুল চালু হয়েছে, যা এন্ডোমেট্রিওসিসের তীব্রতা মূল্যায়ন করে IVF-এর জন্য উপযুক্ত প্রোটোকল নির্ধারণে সহায়তা করছে। এই প্রযুক্তি গর্ভধারণের সম্ভাবনা ২৫% বাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীদের জন্য প্রাথমিক নির্ণয়, ল্যাপারোস্কোপি এবং IVF-এর সমন্বয় গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তবে, গ্রামীণ এলাকায় এই সুবিধা বাড়ানো এবং খরচ কমানোর জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি।
