x
d o c t o r s 2 4
20 Sep

এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত বাংলাদেশি নারীদের জন্য পুষ্টি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, যা ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এই রোগে জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু শরীরের অন্যান্য অংশে বৃদ্ধি পায়, যা তীব্র পেলভিক ব্যথা এবং ইনফার্টিলিটির কারণ হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক খাদ্যাভাস এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণগুলো ৩০% পর্যন্ত কমাতে পারে। বাংলাদেশের খাদ্যাভাসে সহজলভ্য উপাদান, যেমন হলুদ ও আদা, এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

নতুন গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, ভিটামিন ডি-এর অভাব এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথার তীব্রতা বাড়ায়। বাংলাদেশে, যেখানে ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবারের অভাব রয়েছে, মাছ (বিশেষ করে ইলিশ ও রুই) এবং ফ্ল্যাক্সসিড তেলের মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হলুদ, যা বাংলাদেশি রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, এর কারকিউমিন উপাদান প্রদাহ কমাতে ৩৫% কার্যকর বলে প্রমাণিত। একটি স্টাডিতে দেখা গেছে, দৈনিক ১ চা-চামচ হলুদ পানিতে মিশিয়ে পান করলে ব্যথা ও প্রদাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। আদার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণও পেলভিক ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিস-অ্যাডেনোমায়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (EASB) সম্প্রতি একটি খাদ্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে সবুজ শাকসবজি, যেমন পালং শাক ও লাউ শাক, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল, যেমন আম ও কলা, খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকায় দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং লাল মাংস এড়িয়ে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো প্রদাহ বাড়াতে পারে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দুগ্ধজাত দ্রব্য গ্রহণ কমালে এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথা ২৫% কমে। এছাড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনি-যুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নতুন একটি উদ্যোগে, সিলেটের একটি স্থানীয় হাসপাতাল এন্ডোমেট্রিওসিস রোগীদের জন্য পুষ্টি কাউন্সেলিং প্রোগ্রাম চালু করেছে, যেখানে ডায়েটিশিয়ানরা বাংলাদেশি খাবারের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত খাদ্য পরিকল্পনা তৈরি করছেন। এই প্রোগ্রামে দেখা গেছে, ৬০% রোগী যারা নিয়মিত অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট মেনে চলেন, তাদের ব্যথার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এছাড়া, সামাজিক মাধ্যমে #EndoDietBD ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নারীরা তাদের খাদ্যাভাসের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, পুষ্টি এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসার একটি সহায়ক অংশ, তবে এটি ওষুধ বা সার্জারির বিকল্প নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, সাশ্রয়ী ও স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ খাবার ব্যবহার করে এই রোগের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। নিয়মিত পুষ্টি পরামর্শ এবং সচেতন খাদ্যাভাস নারীদের জীবনমান উন্নত করতে পারে।

Leave A Comment