x
d o c t o r s 2 4
18 Sep

বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিস একটি নীরব স্বাস্থ্য সংকট হয়ে উঠেছে, যা লক্ষ লক্ষ নারীর জীবনকে প্রভাবিত করছে। এই রোগে জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পায়, যা তীব্র ব্যথা, ইনফার্টিলিটি এবং অন্যান্য জটিলতার কারণ হয়। তবে, দেশে এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা সুবিধা ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তীব্র সংকট রোগীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রজনন বয়সের ১০.৩% নারী এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত, এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে এর প্রকোপ যথাক্রমে ১৩.৬৬% এবং ২০%।

বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা হিসেবে ওষুধ এবং অস্ত্রোপচার উভয়ই ব্যবহৃত হয়। নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) এবং হরমোন থেরাপি, যেমন গর্ভনিরোধক বড়ি এবং গোনাডোট্রপিন-রিলিজিং হরমোন (GnRH) অ্যাগোনিস্ট, ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। তবে, গুরুতর ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি প্রয়োজন, যা এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু অপসারণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। দুঃখজনকভাবে, ল্যাপারোস্কোপি সুবিধা ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু বড় হাসপাতালে সীমিত, এবং গ্রামীণ এলাকায় এটি প্রায় অপ্রতুল।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। এন্ডোমেট্রিওসিস-অ্যাডেনোমায়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (EASB) জানিয়েছে, দেশে এন্ডোমেট্রিওসিস বিশেষজ্ঞ গাইনোকোলজিস্টের সংখ্যা ১০০-এরও কম, যা জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। গ্রামীণ হাসপাতালগুলোতে এই রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক প্রায় নেই, ফলে অনেক নারী ভুল চিকিৎসা বা দেরিতে নির্ণয়ের শিকার হন। সাম্প্রতিক একটি উদ্যোগে, EASB এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যৌথভাবে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা চালু করেছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেবে।

চিকিৎসার আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো খরচ। ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির গড় খরচ ১,৫০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ টাকা, যা অধিকাংশ নারীর জন্য সাশ্রয়ী নয়। সরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা সীমিত থাকায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার উপর নির্ভর করতে হয়। তবে, সুখবর হলো, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ সম্প্রতি একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে AI-ভিত্তিক ডায়াগনস্টিক টুল ব্যবহার করে প্রাথমিক নির্ণয়ের খরচ ৫০% কমানো সম্ভব হয়েছে। এই প্রযুক্তি রোগীদের লক্ষণ বিশ্লেষণ করে দ্রুত নির্ণয়ে সহায়তা করে।

সামাজিক মাধ্যমে #EndoCareBD ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নারীরা চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, যা সচেতনতা বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ এবং সাশ্রয়ী ডায়াগনস্টিক সুবিধা বাড়ানো জরুরি। সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় এন্ডোমেট্রিওসিসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা নারীদের জন্য আশার আলো হতে পারে।

Leave A Comment