কিডনি স্টোন বা বৃক্কপাথর হলো একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা, যা কিডনির ভিতরে বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে পাথরের মতো কঠিন জমা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে প্রায় লাখ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিডনি স্টোন হঠাৎ দেখা দেয় না; এর প্রাথমিক ১ সপ্তাহ আগে শরীরে কিছু সতর্ক সংকেত প্রকাশ পায়।
এই সংকেতগুলো চিনে রাখা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া হলে যন্ত্রণা কমানো এবং জটিলতা রোধ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক—কিডনি স্টোনের ১ সপ্তাহ আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ:
১. তীব্র কোমর বা পেটের ব্যথা
কিডনি স্টোনের সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রথম লক্ষণ হলো পিঠ বা কোমরের তীব্র ব্যথা।
- সাধারণত কোমরের একপাশে ব্যথা শুরু হয়
- ব্যথা পেটের সামনের অংশ বা যোনিপথে ছড়িয়ে পড়তে পারে
- হঠাৎ এবং ঘনঘন ব্যথা অনুভূত হয়, কখনও কখনও অর্ধেক ঘণ্টা থেকে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়
এই ব্যথা সাধারণ পেশির ব্যথা নয় এবং উপেক্ষা করা বিপজ্জনক।
২. ইউরিনে রঙের পরিবর্তন বা রক্তপাত
কিডনি স্টোনের কারণে প্রায়শই মূত্রে রক্ত বা রঙের পরিবর্তন দেখা যায়।
- মূত্র লালচে বা গোলাপী হয়ে যাওয়া
- মাঝে মাঝে ঝোল-মিশ্রিত রক্ত দেখা
- মূত্রে অস্বাভাবিক গন্ধ বা ঘনত্ব বৃদ্ধি
এই লক্ষণ প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করে এবং ডাক্তার দেখানো জরুরি।
৩. ঘন ঘন বা কষ্টসাধ্য প্রস্রাব
কিডনি স্টোন মূত্রনালীর মাধ্যমে চলার সময় প্রস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি করে।
- বারবার মূত্রত্যাগের প্রয়োজন বোধ
- প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা পুড়নো অনুভূতি
- মূত্র ধীরে ধীরে বা অসম্পূর্ণভাবে বের হওয়া
৪. বমি বা বমিভাব
পাথর কিডনি বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে যখন চলাচল করে, তখন পেটের অস্বস্তি ও বমিভাব দেখা দিতে পারে।
- হঠাৎ বমি বা বমিভাব অনুভূত হওয়া
- খালি পেটে বা খাবারের পর বমি
- কখনও কখনও বমি সঙ্গে ব্যথা ও ঘাম
এই লক্ষণ প্রাথমিক ধাপে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয়।
৫. জ্বর বা শীতলতা
যদি পাথরের সঙ্গে সংক্রমণ জড়িত হয়, তখন জ্বর, শীতলতা বা ক্লান্তি দেখা দেয়।
- হঠাৎ জ্বর উঠা বা ঠান্ডা লাগা
- শরীরের শক্তি কমে যাওয়া
- শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা
জ্বর ও সংক্রমণ কিডনি স্টোনকে আরও জটিল করে, তাই দ্রুত চিকিৎসা নেয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকরা বলছেন, কিডনি স্টোনের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে ডায়াগনোসিস ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে বিলম্ব করা উচিত নয়।
পরামর্শ:
- প্রচুর পানি পান করা, দিনে অন্তত ২–৩ লিটার
- লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো
- নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম
- জ্বর, ব্যথা বা প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া
- প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যান করানো
কিডনি স্টোন একটি যন্ত্রণাদায়ক রোগ, কিন্তু প্রাথমিক সতর্ক সংকেত থাকলে তা প্রতিরোধযোগ্য ও সহজে চিকিৎসাযোগ্য। এই ৫টি লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
