থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের শরীরের বিপাক, হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা ও মানসিক সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থি অতিরিক্ত হরমোন উৎপাদন করলে যে অবস্থা তৈরি হয়, তাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম। বেশিরভাগ মানুষ রোগটি ধরা পড়ার পরই চিকিৎসা শুরু করেন, কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণা বলছে—হাইপারথাইরয়েডিজম পুরোপুরি প্রকাশ পাওয়ার প্রায় ১–২ মাস আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দিতে শুরু করে। এসব লক্ষণ সময়মতো চিনতে পারলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
হাইপারথাইরয়েডিজম কেন হয়
এই রোগের প্রধান কারণ হলো থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ। গ্রেভস ডিজিজ, থাইরয়েড নডিউল, অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ বা কিছু ওষুধ এর পেছনে দায়ী হতে পারে। হরমোন বেড়ে গেলে শরীরের বিপাক অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে।
নিচে হাইপারথাইরয়েডিজমের ২ মাস আগে প্রায়ই দেখা দেওয়া ৫টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
১. অকারণ ওজন কমে যাওয়া
খাবার স্বাভাবিক বা কখনো বেশি খাওয়া সত্ত্বেও হঠাৎ ওজন কমতে শুরু করা হাইপারথাইরয়েডিজমের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর গতি বাড়িয়ে দেয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ওজন কমার সঙ্গে পেশি দুর্বলতাও ধীরে ধীরে শুরু হতে পারে, যা অনেকেই প্রথমে গুরুত্ব দেন না।
২. হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ও অস্থিরতা
২ মাস আগে থেকেই অনেকের হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত হতে থাকে। হালকা কাজেই বুক ধড়ফড় করা, অল্প উত্তেজনায় অস্বস্তি বা ঘাম হওয়া এর ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে অনিয়মিত হার্টবিট (প্যালপিটেশন) দেখা দিলেও তা অনেক সময় দুশ্চিন্তা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
৩. অতিরিক্ত ঘাম ও তাপ সহ্য করতে না পারা
হাইপারথাইরয়েডিজমের শুরুতে শরীরের তাপ উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেও অতিরিক্ত গরম লাগা, ঘাম হওয়া এবং ঠান্ডা পরিবেশে স্বস্তি পাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এটি বিপাক অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
৪. ঘুমের সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতা
রোগ প্রকাশের আগেই অনেকের অনিদ্রা, অকারণ দুশ্চিন্তা, বিরক্তি বা মুড সুইং দেখা দিতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট করে, যার ফলে মনোযোগ কমে যায় এবং মানসিক অস্থিরতা বাড়ে।
৫. হাত কাঁপা ও পেশি দুর্বলতা
হালকা কাজ করার সময় হাত কাঁপা বা সূক্ষ্ম কম্পন হাইপারথাইরয়েডিজমের একটি প্রাথমিক লক্ষণ। এর সঙ্গে পেশি দুর্বলতা, বিশেষ করে সিঁড়ি ভাঙতে বা ভারী জিনিস তুলতে সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণগুলো অনেক সময় ভিটামিন ঘাটতি ভেবে ভুল করা হয়।
কখন সতর্ক হবেন
উপরের একাধিক লক্ষণ যদি একসঙ্গে ২–৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট (TSH, T3, T4) করানো জরুরি। দ্রুত শনাক্ত হলে ওষুধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হাইপারথাইরয়েডিজম সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
