x
d o c t o r s 2 4
25 Oct

গাউট একটি বেদনাদায়ক বাত রোগ, যা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে জয়েন্টগুলোতে তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই রোগ সাধারণত হঠাৎ আক্রমণ করে, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, গাউটের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার প্রায় এক মাস আগে থেকেই শরীর সূক্ষ্ম সংকেত দিতে শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১-২% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গাউটে ভুগছেন, এবং পুরুষ ও মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি। প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে নিলে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগের তীব্রতা কমানো সম্ভব। আসুন, জেনে নিই গাউটের এক মাস আগে শরীরে দেখা দেয় এমন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে।

১. জয়েন্টে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি

গাউটের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জয়েন্টে, বিশেষ করে বুড়ো আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুতে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের গবেষণা অনুসারে, ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টাল জয়েন্টে জমা হওয়ার আগে এই অস্বস্তি শুরু হয়। এই ব্যথা সাধারণত তীব্র নয়, তবে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো বা হাঁটার পর বাড়তে পারে। এই লক্ষণ এক মাস আগে থেকে শুরু হলে পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার (যেমন লাল মাংস, সামুদ্রিক খাবার) কমিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. ত্বকের লালচে ভাব বা উষ্ণতা

জয়েন্টের চারপাশের ত্বকে হালকা লালচে ভাব বা উষ্ণ অনুভূতি গাউটের আরেকটি প্রাথমিক সংকেত। হেলথলাইনের তথ্য অনুসারে, ইউরিক অ্যাসিড জমা হওয়ার ফলে ত্বকে সামান্য প্রদাহ শুরু হয়, যা গাউটের আক্রমণের আগে লক্ষণীয়। এই লক্ষণ প্রায়শই বুড়ো আঙুল বা কব্জির ত্বকে দেখা যায়। পর্যাপ্ত পানি পান এবং অ্যালকোহল কমিয়ে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি

গাউটের আগে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়লে শরীরে ক্লান্তি বা শক্তির অভাব দেখা দিতে পারে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, শরীর ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে, যা ক্লান্তির কারণ হয়। এই লক্ষণ এক মাস আগে থেকে শুরু হয় এবং বিশ্রামের পরেও থেকে যায়। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা পরীক্ষা করলে এটি ধরা পড়তে পারে।

৪. প্রস্রাবের পরিবর্তন

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়লে প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া গাউটের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। মেডিকেল নিউজ টুডের তথ্য অনুসারে, কিডনি ইউরিক অ্যাসিড ফিল্টার করতে অতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন হয়, যা প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন আনে। দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করলে এই সমস্যা কমতে পারে।

৫. হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব

জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টাল জমার ফলে হাত-পা বা আঙুলে ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তা অনুভূত হতে পারে। এটি সাধারণত রাতে বা বিশ্রামের সময় বেশি লক্ষণীয়। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, এই লক্ষণ গাউটের আক্রমণের এক মাস আগে থেকে শুরু হয়। হালকা ব্যায়াম এবং ডায়েটে পরিবর্তন এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

৬. ত্বকে টোফি গঠন

কিছু ক্ষেত্রে, ত্বকের নিচে ছোট ছোট শক্ত গুটি বা টোফি (tophi) দেখা দিতে পারে, যা ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টালের জমা হওয়ার ফল। এটি সাধারণত কান, আঙুল বা গোড়ালির কাছে দেখা যায়। এই লক্ষণ খুবই সূক্ষ্ম এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে গাউট প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা পরীক্ষা করান। প্রতিরোধের জন্য পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার (যেমন লাল মাংস, মদ্যপান, শেলফিশ) এড়িয়ে চলুন এবং চেরি, সাইট্রাস ফল, এবং সবুজ শাকসবজি খাদ্যাভ্যাসে রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়াম গাউটের ঝুঁকি কমায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, ৩০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গাউটের মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। সময় থাকতে সতর্ক হোন, কারণ প্রাথমিক চিকিৎসাই গাউটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা!

 

Leave A Comment