গ্রেভস ডিজিজ (Graves’ Disease) একটি অটোইমিউন থাইরয়েড disorder, যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম থাইরয়েড গ্রন্থিকে অতিরিক্ত হরমোন উৎপাদনের জন্য প্ররোচিত করে। এতে থাইরয়েড হরমোন থাইরক্সিন (T4) ও ট্রাইআইডোথাইরোনিন (T3)-এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা শরীরের বিপাকীয় হার, হৃদস্পন্দন ও অন্যান্য শারীরিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, গ্রেভস ডিজিজ হঠাৎ করে দেখা দেয় না। প্রায় এক মাস আগেই শরীর কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের মাধ্যমে সতর্ক সংকেত দেয়। এই সংকেতগুলোকে চিনে সময়মতো চিকিৎসা নিলে গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
নিচে গ্রেভস ডিজিজের ১ মাস আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
১. অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন ও হৃদরোগের অনুভূতি
গ্রেভস ডিজিজে থাইরয়েড হরমোন অতিরিক্ত উৎপন্ন হওয়ার কারণে হৃদপিন্ডের ক্রিয়া দ্রুত হয়ে যায়। রোগীরা এক মাস আগেই—
- হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া (Palpitations),
- বুক ধড়ফড় করা,
- হালকা মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে পারেন।
এই লক্ষণগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, কারণ প্রথম দিকে তা সাধারণ মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত কফি খাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ধরা হয়।
২. ওজন হ্রাস ও ক্ষুধা বৃদ্ধি
থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ততা শরীরের বিপাকীয় হার (Metabolic Rate) বাড়িয়ে দেয়। ফলে রোগী খাবার প্রচুর খেয়ে গেলেও ওজন হ্রাস করতে থাকে।
ওজন কমা প্রায়শই প্রথম প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা যায়। শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শারীরিক শক্তি দ্রুত কমতে থাকে।
৩. ঘুমের সমস্যা ও অস্থিরতা
গ্রেভস ডিজিজের আগাম পর্যায়ে দেখা দেয় ঘুমের ব্যাঘাত। রোগীরা রাতে জেগে থাকে বা বারবার ঘুম ভেঙে যায়।
সঙ্গে যুক্ত হয় উদ্বেগ, রাগান্বিত মেজাজ এবং অস্থিরতা। এ ধরনের মানসিক পরিবর্তন শরীরের অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোনের প্রভাব নির্দেশ করে।
৪. চোখের সমস্যা
গ্রেভস ডিজিজের এক বৈশিষ্ট্য হলো গ্রেভস অপথালমোপ্যাথি। প্রাথমিক অবস্থায় চোখ লালচে বা ফোলা মনে হতে পারে।
রোগীর চোখ বড় দেখায় বা চোখের চারপাশে অস্বাভাবিক চাপ অনুভূত হয়। কখনও কখনও চোখের পাতা হালকা ওঠানামা করে, যা প্রায়ই অন্যান্য চোখের সমস্যা হিসেবে ভুলে ধরা হয়।
৫. হাত ও পায়ে কাঁপুনি এবং দুর্বলতা
শরীরের অতিরিক্ত হরমোন পেশিতে প্রভাব ফেলে। রোগীরা এক মাস আগেই—
- হাত বা পায়ের অস্থির কাঁপুনি (Tremor),
- দ্রুত ক্লান্তি ও পেশির দুর্বলতা অনুভব করেন।
পেশি দুর্বলতার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রতিরোধ ও করণীয়
- স্বাস্থ্য পরীক্ষা: হরমোন লেভেল (T3, T4, TSH) পরীক্ষা।
- নিয়মিত ডাক্তার পরামর্শ নেয়া।
- মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা।
- চোখের সমস্যা থাকলে চোখের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ।
- ওজন ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা।
