x
d o c t o r s 2 4
18 Sep

গ্লুকোমা, যা চোখের অপটিক নার্ভকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণ হয়ে ওঠে, বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়ছে, বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, ২০২৫ সালে গ্লুকোমার প্রাথমিক সনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং জিন থেরাপির মতো নতুন প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। এই রোগের ঝুঁকি এবং প্রাথমিক সনাক্তকরণ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন, কারণ গ্লুকোমা প্রায়শই উপসর্গহীনভাবে অগ্রসর হয়।

গ্লুকোমা হলো চোখের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যেখানে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ (ইনট্রাওকুলার প্রেসার) বেড়ে যাওয়ার ফলে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই নার্ভ চোখ থেকে মস্তিষ্কে দৃষ্টি সংকেত পাঠায়। রোগটি প্রধানত দুই ধরনের: ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, যা ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়, এবং অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা, যা হঠাৎ করে তীব্র হতে পারে। বাংলাদেশে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, এই রোগের নির্ণয় প্রায়শই দেরিতে হয়, যার ফলে অন্ধত্বের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুসারে, গ্লুকোমা বিশ্বে অন্ধত্বের দ্বিতীয় প্রধান কারণ।

গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়ানোর কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। বয়স ৪০ বছরের উপরে হলে ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে ৬০ বছরের পর। পারিবারিক ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ—যদি পরিবারে কারও গ্লুকোমা থাকে, তাহলে ঝুঁকি ৪-৯ গুণ বাড়ে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, এবং দূরদৃষ্টি বা অদূরদৃষ্টির মতো চোখের সমস্যা এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে, ধূমপান এবং অপুষ্টি এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া, এশিয়ান জাতিগত গোষ্ঠীতে অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমার ঝুঁকি বেশি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশগত কারণ যেমন দূষণ এবং UV রশ্মির অতিরিক্ত এক্সপোজারও গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গ্লুকোমা প্রায়শই ‘নীরব ঘাতক’ বলে পরিচিত কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে, প্রাথমিক সনাক্তকরণের মাধ্যমে দৃষ্টি হারানো রোধ করা সম্ভব। নিয়মিত চোখের পরীক্ষা, যেমন টোনোমেট্রি (চোখের চাপ মাপা), অপটিক নার্ভ পরীক্ষা, এবং ভিজুয়াল ফিল্ড টেস্ট, এই রোগ সনাক্ত করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে, সরকারি হাসপাতাল এবং এনজিওগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে এই পরীক্ষা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, ৪০ বছরের উপরে সবাই বছরে অন্তত একবার চোখের পরীক্ষা করান।

গ্লুকোমা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, এবং ধূমপান পরিত্যাগ এই রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। বাংলাদেশে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গ্লুকোমা সচেতনতা সপ্তাহ পালন করে এবং ফ্রি স্ক্রিনিং ক্যাম্পের আয়োজন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক সনাক্তকরণের মাধ্যমে ৯০% ক্ষেত্রে দৃষ্টি রক্ষা করা সম্ভব।

২০২৫ সালে নতুন গবেষণা এবং প্রযুক্তির সাহায্যে গ্লুকোমার বিরুদ্ধে লড়াই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সচেতনতা এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা এই রোগকে পরাজিত করতে পারি।

Leave A Comment