x
d o c t o r s 2 4
02 Aug

জন্ডিস একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা বিশ্বব্যাপী সব বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করে। এটি সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়, যা লিভারে সংক্রমণ ঘটায়। জন্ডিসে ত্বক, চোখ এবং শরীরের তরল হলুদ হয়ে যায়, যা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। বিশেষ করে নবজাতকদের মধ্যে এটি খুবই সাধারণ। তবে, জন্ডিসের কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে জানা থাকলে এর প্রভাব কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই জন্ডিস কেন হয় এবং এর লক্ষণগুলো কী।

জন্ডিস কেন হয়?

জন্ডিস হয় যখন রক্তে বিলিরুবিন নামক একটি হলুদ রঙের পদার্থ অতিরিক্ত পরিমাণে জমা হয়। বিলিরুবিন সাধারণত লোহিত রক্তকণিকার ভাঙনের ফলে তৈরি হয় এবং লিভার এটি ফিল্টার করে পিত্তের মাধ্যমে মল ও প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে বা বিলিরুবিন অতিরিক্ত উৎপন্ন হলে এটি শরীরে জমা হয়, ফলে ত্বক, চোখ এবং শরীরের তরল হলুদ হয়ে যায়। জন্ডিসের প্রধান কারণগুলো হলো:

  • হেপাটাইটিস: ভাইরাসজনিত সংক্রমণ (হেপাটাইটিস এ, বি, সি) লিভারের কার্যকারিতা কমিয়ে জন্ডিস সৃষ্টি করে।
  • লিভারের রোগ: লিভার সিরোসিস, ফ্যাটি লিভার বা লিভারের ক্ষতি জন্ডিসের কারণ হতে পারে।
  • পিত্তনালীতে বাধা: পিত্তথলির পাথর বা টিউমার পিত্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে বিলিরুবিন জমা হয়।
  • হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া: লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে ভেঙে গেলে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
  • নবজাতকের জন্ডিস: নবজাতকদের লিভার এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে বিলিরুবিন জমা হয়।
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ বা অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতি করে জন্ডিস ঘটাতে পারে।
জন্ডিসের লক্ষণ

জন্ডিসের লক্ষণগুলো সাধারণত সহজেই শনাক্ত করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ত্বক ও চোখের হলুদভাব: চোখের সাদা অংশ এবং ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া জন্ডিসের প্রধান লক্ষণ।
  • গাঢ় হলুদ প্রস্রাব: বিলিরুবিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হওয়ায় প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়।
  • হালকা রঙের মল: পিত্তের অভাবে মল হালকা বা ধূসর রঙের হয়।
  • চুলকানি: উচ্চ মাত্রার বিলিরুবিন ত্বকে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে।
  • অন্যান্য লক্ষণ:
    • জ্বর বা ঠান্ডা লাগা
    • পেটে ব্যথা
    • বমি বা মলে রক্ত
    • ক্লান্তি ও দুর্বলতা
    • ক্ষুধামান্দ্য
    • বিনা কারণে রক্তপাত বা ক্ষত

নবজাতকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লক্ষণ হতে পারে:

  • কমলা বা হলুদ ত্বক
  • ঘুম থেকে উঠতে অসুবিধা
  • কম প্রস্রাব
  • চোখের অস্বাভাবিক নড়াচড়া
  • শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া
জন্ডিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসার উপায়

জন্ডিসের চিকিৎসা তার কারণের উপর নির্ভর করে। তবে, কিছু সাধারণ পদক্ষেপ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হলো:

  • পরিষ্কার খাবার ও পানি: দূষিত খাবার বা পানি এড়িয়ে চলুন। ফুটানো বা ফিল্টার করা পানি পান করুন।
  • হেপাটাইটিস টিকা: হেপাটাইটিস এ এবং বি এর টিকা নিন, যা লিভারের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: অ্যালকোহল সেবন সীমিত করুন এবং ধূমপান এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো লিভারের ক্ষতি করে।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করান।
  • নবজাতকদের জন্য ফটোথেরাপি: নবজাতকদের জন্ডিসের ক্ষেত্রে ফটোথেরাপি (বিশেষ আলোর চিকিৎসা) বিলিরুবিনের মাত্রা কমাতে সহায়ক।
  • পুষ্টিকর খাবার: ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ খাবার (যেমন ফল, শাকসবজি) লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ: জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডাক্তার লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) এবং অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা প্রদান করবেন।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি আপনি বা আপনার শিশুর নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • ত্বক বা চোখের তীব্র হলুদভাব
  • গাঢ় প্রস্রাব বা হালকা মল
  • তীব্র চুলকানি বা পেটে ব্যথা
  • বমি, জ্বর বা রক্তপাত
  • নবজাতকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘুম, খাওয়ায় অনীহা বা শরীর বেঁকে যাওয়া

 

Leave A Comment