x
d o c t o r s 2 4
25 Dec

জেট ল্যাগ একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা, যা দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণের পর শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে বিঘ্নিত করে। এটি শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম (দৈনন্দিন জৈবিক চক্র) এর অসমন্বয়ের ফলে ঘটে, যখন আপনি কয়েকটি টাইম জোন অতিক্রম করেন। মায়ো ক্লিনিকের মতে, জেট ল্যাগের লক্ষণ সাধারণত ভ্রমণের পর ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে শুরু হয়, বিশেষ করে কমপক্ষে দুটি টাইম জোন অতিক্রম করলে।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরোপুরি জেট ল্যাগের আক্রমণের ১ দিন আগে, অর্থাৎ ভ্রমণের পরপরই শরীরে কিছু আগাম সংকেত দেখা দিতে পারে। এগুলো চিহ্নিত করলে সময়মতো প্রতিরোধ করা সম্ভব, যা ভ্রমণের আনন্দকে বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে, প্রায় ৭৫% লোক পূর্বদিকে ভ্রমণে জেট ল্যাগ বেশি অনুভব করেন, কারণ শরীরের ঘড়ি ২৪ ঘণ্টার চেয়ে সামান্য লম্বা হয়ে থাকে।

জেট ল্যাগ কী এবং কেন প্রাথমিক সনাক্তকরণ জরুরি?

জেট ল্যাগ শুধু ঘুমের সমস্যা নয়, এটি শরীরের সামগ্রিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। সিডিসি-এর ইয়েলো বুক অনুসারে, এটি ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক দুর্বলতা, দিনের ঘুমানো, সাধারণ অসুস্থতা, পেটের সমস্যা এবং অন্যান্য লক্ষণ সৃষ্টি করে। ভ্রমণের দিক, টাইম জোনের সংখ্যা, বয়স এবং পূর্ববর্তী ঘুমের মানের উপর নির্ভর করে লক্ষণের তীব্রতা বাড়ে।

উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমদিকে ভ্রমণে লক্ষণ কম হয়, কারণ শরীরের ঘড়ি সহজে বিলম্বিত হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, জেট ল্যাগ মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে—পশ্চিমদিকে ভ্রমণে বিষণ্নতা এবং পূর্বদিকে ম্যানিক এপিসোড বাড়তে পারে। প্রাথমিক সনাক্তকরণ না হলে এটি দুর্ঘটনা, কর্মক্ষমতা হ্রাস বা দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যা ডেকে আনতে পারে। নতুন তথ্য: নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষণায় খাবারের সময়সূচী অনুসরণ করে জেট ল্যাগের পুনরুদ্ধার সময় এক-তৃতীয়াংশ কমানো যায়।

পুরোপুরি জেট ল্যাগের ১ দিন আগে দেখা দেয়া ৩টি প্রধান লক্ষণ

গবেষণা অনুসারে, জেট ল্যাগের পূর্ণ লক্ষণ (যেমন গভীর ঘুমের সমস্যা বা পেটের অসুস্থতা) প্রকাশের ১ দিন আগে, অর্থাৎ ভ্রমণের পরপরই নিম্নলিখিত ৩টি আগাম লক্ষণ দেখা যায়। এগুলো প্রায়শই ভ্রমণের ক্লান্তি (ট্রাভেল ফ্যাটিগ) এর সাথে মিলে যায়, কিন্তু জেট ল্যাগের সূচনা নির্দেশ করে:

  • দিনের ক্লান্তি ও অলসতা: ভ্রমণের পর প্রথম দিনেই অহেতুক ক্লান্তি অনুভূত হয়, এমনকি ভালো ঘুমের পরও। এটি শরীরের ঘড়ির অসমন্বয়ের প্রথম সংকেত। স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, এটি দিনের ঘুমানোর প্রবণতা বাড়ায়।
  • মাথাব্যথা ও একাগ্রতার অভাব: কেবিন প্রেশার এবং ডিহাইড্রেশনের কারণে প্রথম দিনেই মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে, যা মানসিক ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। PMC-এর রিভিউ অনুসারে, এটি সাইকোমোটর রিটার্ডেশনের সূচনা।
  • অস্থিরতা বা মেজাজের পরিবর্তন: ভ্রমণের পরপরই অস্থিরতা বা খিটখিটে ভাব অনুভূত হয়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। ইউনিভার্সিটি হসপিটালসের মতে, এটি ভ্রমণের চাপের সাথে যুক্ত।

এই লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে বাড়ে এবং অন্য সমস্যা (যেমন ডিহাইড্রেশন) এর সাথে গুলিয়ে ফেলা যায়।

কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের নতুন উপায়

জেট ল্যাগের মূল কারণ হলো আলো-অন্ধকার চক্রের সাথে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির অমিল। বিমানের কেবিন প্রেশার, নিম্ন আর্দ্রতা এবং ডিহাইড্রেশন এটিকে বাড়ায়। চিকিৎসায় মেলাটোনিন (ডাক্তারের পরামর্শে) এবং ঘুমের সহায়ক ব্যবহার হয়, কিন্তু নতুন গবেষণায় খাবারের সময়সূচী গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণস্বরূপ, পূর্বদিকে ভ্রমণে ফ্লাইটে খাবার এড়িয়ে গন্তব্যে সকালের খাবার খাওয়া পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করে। প্রতিরোধে: ভ্রমণের আগে ঘুমের সময়সূচী সামঞ্জস্য করুন, জলপান করুন, অ্যালকোহল এড়ান। আগমনের পর আলোর এক্সপোজার (পূর্বদিকে সকালে, পশ্চিমে সন্ধ্যায়) নিন। অ্যাপস যেমন টাইমশিফটার ব্যক্তিগতকৃত পরিকল্পনা দেয়।

যদি এই লক্ষণ দেখা যায়, তাৎক্ষণিক বিশ্রাম নিন এবং ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। প্রাথমিক সচেতনতা জেট ল্যাগকে জয় করতে সাহায্য করবে।

Leave A Comment