x
d o c t o r s 2 4
27 Oct

টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্যানক্রিয়াসের ইনসুলিন-উৎপাদনকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯ মিলিয়ন মানুষ টাইপ ১ ডায়াবেটিসে ভুগছেন, এবং এটি শিশু ও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। যদিও এই রোগ হঠাৎ করে প্রকাশ পায়, চিকিৎসকদের মতে, প্রায় এক মাস আগে থেকেই শরীর সূক্ষ্ম সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো চিনে নিলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। আসুন, জেনে নিই টাইপ ১ ডায়াবেটিসের এক মাস আগে শরীরে দেখা দেয় এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে।

১. অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও ঘন ঘন প্রস্রাব

টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ হলো অতিরিক্ত তৃষ্ণা (পলিডিপসিয়া) এবং ঘন ঘন প্রস্রাব (পলিউরিয়া)। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুসারে, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়লে কিডনি অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে, যা প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে তীব্র তৃষ্ণা অনুভূত হয়। এই লক্ষণ এক মাস আগে থেকে শুরু হতে পারে, বিশেষ করে রাতে। যদি আপনি বা আপনার শিশু অস্বাভাবিকভাবে বেশি পানি পান করেন, তবে রক্তে শর্করার পরীক্ষা করান।

২. অস্বাভাবিক ক্ষুধা

ইনসুলিনের অভাবে শরীর গ্লুকোজকে কোষে পৌঁছাতে পারে না, ফলে শক্তির ঘাটতি হয় এবং অস্বাভাবিক ক্ষুধা (পলিফেজিয়া) দেখা দেয়। হেলথলাইনের গবেষণা অনুসারে, এই লক্ষণ টাইপ ১ ডায়াবেটিসের এক মাস আগে থেকে শুরু হতে পারে। খাওয়ার পরেও ক্ষুধা না কমলে এটি একটি সতর্কতা হতে পারে। এই অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্লুকোজ টেস্ট করা উচিত।

৩. অকারণে ওজন হ্রাস

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া টাইপ ১ ডায়াবেটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, শরীর যখন গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না, তখন এটি চর্বি ও পেশী ভেঙে শক্তি উৎপাদন করে, যা ওজন হ্রাসের কারণ হয়। এই লক্ষণ শিশু ও তরুণদের মধ্যে বেশি লক্ষণীয় এবং এক মাসের মধ্যে ৫-১০% ওজন কমে যেতে পারে। এটি দেখা দিলে অবিলম্বে রক্ত পরীক্ষা করান।

৪. ক্লান্তি ও দুর্বলতা

ইনসুলিনের অভাবে শরীরের কোষে শক্তি সরবরাহ ব্যাহত হলে অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। মেডিকেল নিউজ টুডের তথ্য অনুসারে, এই লক্ষণ এক মাস আগে থেকে শুরু হয় এবং সাধারণ কাজে, যেমন হাঁটা বা খেলাধুলায়, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া লক্ষ্য করা যায়। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে HbA1c পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিশ্চিত করা যায়।

৫. মেজাজের পরিবর্তন বা বিরক্তি

টাইপ ১ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে রক্তে শর্করার ওঠানামার কারণে মেজাজের পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক বিরক্তি দেখা দিতে পারে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, শিশুদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি লক্ষণীয়, যেমন অকারণে রাগ বা কান্না। এই লক্ষণ এক মাস আগে থেকে শুরু হয় এবং শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না আনলে তীব্র হয়।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা (ফাস্টিং গ্লুকোজ বা HbA1c) করান। টাইপ ১ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, প্রাথমিক শনাক্তকরণের মাধ্যমে ইনসুলিন থেরাপি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, যেমন ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ও কম চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ, এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শিশু ও তরুণদের ক্ষেত্রে বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা টাইপ ১ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে।

Leave A Comment