x
d o c t o r s 2 4
16 Jan

টেস্টিকুলার ক্যান্সার বা অণ্ডকোষের ক্যান্সার সাধারণত তরুণ এবং মধ্যবয়সী পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এটি প্রায় ১০০ শতাংশ নিরাময়যোগ্য। তবে সমস্যা হলো, পুরুষরা প্রায়ই লজ্জার কারণে বা অসচেতনতাবশত প্রাথমিক লক্ষণগুলো এড়িয়ে যান। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, টিউমারটি বড় হওয়ার প্রায় ৩ মাস আগে শরীর কিছু বিশেষ সংকেত দিতে শুরু করে, যা মূলত “প্রারম্ভিক সতর্কতা” হিসেবে কাজ করে।

অণ্ডকোষের ক্যান্সারের লক্ষণগুলো সবসময় স্পষ্ট ব্যথা দিয়ে শুরু হয় না। ৩ মাস আগেই শরীরে যে পরিবর্তনগুলো আসতে শুরু করে, সেগুলো হলো:

১. অণ্ডকোষে ব্যথাহীন শক্ত পিণ্ড বা পিণ্ড সদৃশ কিছু (Painless Lump)

এটি টেস্টিকুলার ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রাথমিক লক্ষণ। অণ্ডকোষের ওপর ছোট মটর দানার মতো বা তার চেয়ে বড় কোনো শক্ত পিণ্ড অনুভূত হতে পারে। এই পিণ্ডটি সাধারণত কোনো ব্যথা সৃষ্টি করে না, ফলে অনেকে একে গুরুত্ব দেন না। যদি আপনি স্নান করার সময় বা অন্য কোনোভাবে অণ্ডকোষে কোনো নতুন পিণ্ড বা অস্বাভাবিক শক্ত অংশ অনুভব করেন, তবে সেটি ৩ মাস পরের বড় বিপদের পূর্বাভাস হতে পারে।

২. অণ্ডকোষে ভারী ভাব অনুভূত হওয়া (Feeling of Heaviness)

কোনো নির্দিষ্ট পিণ্ড না থাকলেও, আক্রান্ত ব্যক্তি অণ্ডকোষে এক ধরণের অস্বস্তিকর ভারী ভাব অনুভব করতে পারেন। মনে হতে পারে অণ্ডকোষটি ঝুলে পড়ছে বা সেখানে বাড়তি কোনো ওজন কাজ করছে। এই অনুভূতিটি তলপেট বা কুঁচকির (Groin) আশেপাশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি ঘটে মূলত যখন ক্যান্সার কোষগুলো অণ্ডকোষের অভ্যন্তরীণ রক্ত সঞ্চালন বা টিস্যুর ঘনত্বে পরিবর্তন আনে।

৩. অণ্ডকোষের আকার বা গঠনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন

দুটি অণ্ডকোষের আকার সবসময় হুবহু এক হয় না, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু যদি দেখেন একটি অণ্ডকোষ অন্যটির তুলনায় হঠাৎ করে বড় হয়ে যাচ্ছে বা এর গঠনে অসমতা দেখা দিচ্ছে, তবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ৩ মাস আগে থেকে এই আকারের পরিবর্তন ধীরে ধীরে শুরু হয়। অনেক সময় অণ্ডকোষের থলিতে (Scrotum) হঠাৎ পানি জমে ফুলে যাওয়াও এই ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

৪. স্তন টিস্যুর বৃদ্ধি বা সংবেদনশীলতা (Gynecomastia)

এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া লক্ষণ। কিছু বিশেষ ধরণের টেস্টিকুলার টিউমার এমন হরমোন (যেমন- hCG) তৈরি করে যা পুরুষদের স্তন টিস্যুর বৃদ্ধি ঘটায় বা স্তনের বোঁটা সংবেদনশীল করে তোলে। যদি কোনো কারণ ছাড়াই স্তন কিছুটা বড় মনে হয় বা সেখানে অস্বস্তি হয়, তবে তা অণ্ডকোষের টিউমারের সংকেত হতে পারে।

ব্যথা কি সবসময় থাকে?

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—ক্যান্সার মানেই অসহ্য ব্যথা। টেস্টিকুলার ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীই শুরুর দিকে কোনো ব্যথা অনুভব করেন না। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে তলপেটে বা কুঁচকিতে মৃদু চিনচিনে ব্যথা বা এক ধরণের একঘেয়ে অস্বস্তি (Dull ache) থাকতে পারে।

কেন ৩ মাসের এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ?

টেস্টিকুলার ক্যান্সার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ৩ মাস আগে যখন এই লক্ষণগুলো প্রথম দেখা দেয়, তখন ক্যান্সার সাধারণত অণ্ডকোষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে কোনো প্রকার জটিল থেরাপি ছাড়াই শুধুমাত্র ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে যান। দেরি করলে এটি লিম্ফ নোড, ফুসফুস বা লিভারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

সুরক্ষায় করণীয়:

চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন মাসে অন্তত একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অণ্ডকোষ নিজে পরীক্ষা করার (TSE)। এটি করার সেরা সময় হলো গরম জলে স্নানের পর, কারণ তখন অণ্ডকোষের পেশিগুলো শিথিল থাকে।

  • কী দেখবেন: কোনো পিণ্ড, ফোলা ভাব, বা আগের মাসের তুলনায় আকারের বড় কোনো পার্থক্য আছে কিনা।

  • কখন ডাক্তার দেখাবেন: যদি উপরে উল্লিখিত ৪টি লক্ষণের কোনোটি ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।

পুরুষের সুস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলাটা লজ্জার নয়, বরং সাহসের কাজ। ৩ মাস আগের এই লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে পারা মানেই হলো জীবনের লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া। তাই নিজের শরীরের পরিবর্তনের প্রতি যত্নশীল হোন।

Leave A Comment