x
d o c t o r s 2 4
08 Nov

আজকের ব্যস্ত জীবনে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি জনপ্রিয় হচ্ছে ডায়েট সাপ্লিমেন্ট—ভিটামিন, প্রোটিন, মিনারেল, হারবাল বা ওজন কমানোর নানা পণ্য। বাজারে প্রতিদিন নতুন নতুন সাপ্লিমেন্ট যুক্ত হচ্ছে, আর বিজ্ঞাপনগুলো দাবি করছে—“মাত্র এক ট্যাবলেটেই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ।” কিন্তু আসলেই কি এই সাপ্লিমেন্টগুলো সবার জন্য জরুরি? আর অজান্তে এগুলো কি শরীরের ক্ষতিও করতে পারে?

ডায়েট সাপ্লিমেন্ট কী?

ডায়েট সাপ্লিমেন্ট (Dietary Supplement) হলো এমন এক ধরনের পুষ্টিপণ্য যা খাবারের বিকল্প নয়, বরং পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এতে ভিটামিন, খনিজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, এনজাইম, ও কখনো কখনো হারবাল উপাদানও থাকে। এগুলো ট্যাবলেট, পাউডার, ক্যাপসুল বা তরল আকারে বাজারে পাওয়া যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, বিশ্বের প্রায় ৩০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত কোনো না কোনো ধরনের ডায়েট সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে থাকেন। তবে এর ব্যবহার ও প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন।

প্রয়োজনীয়তা: কখন সাপ্লিমেন্ট দরকার হয়

সবাইয়ের জন্য ডায়েট সাপ্লিমেন্ট অপরিহার্য নয়। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—

  • গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী: ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট শিশুর শারীরিক বিকাশে সাহায্য করে।
  • বয়স্ক মানুষ: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবার হজমক্ষমতা ও পুষ্টি শোষণ কমে যায়। তাই ভিটামিন বি১২, ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
  • শাকাহারী বা ভেগান ব্যক্তিরা: প্রাণিজ উৎসের পুষ্টি যেমন বি১২ ও আয়রন না পাওয়ায় তাদের জন্য সাপ্লিমেন্ট সহায়ক।
  • অ্যাথলিট ও বডিবিল্ডাররা: প্রোটিন ও ইলেক্ট্রোলাইট সাপ্লিমেন্ট অনেক সময় কর্মদক্ষতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

তবে এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য, কারণ শরীরের প্রকৃত প্রয়োজন না জেনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে।

বর্তমান সময়ে অনেকেই সামাজিক মাধ্যম বা ইউটিউবের প্রভাবে নিজে থেকেই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করেন। কিন্তু অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট শরীরে “টক্সিক ওভারলোড” তৈরি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ—

  • অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত আয়রন শরীরে জমে গিয়ে হার্ট ও লিভারের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
  • প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের অতিরিক্ত ব্যবহার কিডনির ওপর চাপ ফেলে।
  • অনেক হারবাল সাপ্লিমেন্টে ভারী ধাতু বা অজানা রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের মধ্যে ৪০% মানুষ প্রয়োজন ছাড়াই এসব পণ্য ব্যবহার করেন, যার মধ্যে ১৫% ব্যক্তি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগেছেন।

অন্যদিকে, কিছু নতুন গবেষণায় বলা হচ্ছে, “ফুড-ফার্স্ট” নীতি—অর্থাৎ পুষ্টি খাবার থেকেই নেওয়া—সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। প্রাকৃতিক খাবারের পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে সহজে শোষিত হয়, যা কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে সবসময় ঘটে না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
  • কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
  • পণ্যের লেবেলে “GMP Certified”, “FDA Approved” বা “ISO Standard” লেখা আছে কিনা যাচাই করুন।
  • প্রাকৃতিক খাবার থেকেই পুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • শিশু, গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট শুরু করবেন না।

Leave A Comment