এন্ডোমেট্রিওসিস শুধু শারীরিক ব্যথার কারণ নয়, এটি বাংলাদেশের নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এই রোগে জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু শরীরের অন্যান্য অংশে বৃদ্ধি পায়, যা তীব্র পেলভিক ব্যথা, ইনফার্টিলিটি এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীদের ৪০% ডিপ্রেশন এবং ৩৫% অ্যাঙ্গজাইটিতে ভোগেন, যা রোগের দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতি এবং সামাজিক ট্যাবুর কারণে আরও জটিল হয়।
নতুন গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, এন্ডোমেট্রিওসিসের সাথে মাইগ্রেনের সম্পর্ক মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি হাসপাতাল-ভিত্তিক স্টাডি অনুসারে, এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ৩৫% মাইগ্রেনে ভুগছেন, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাংলাদেশে, এই রোগ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনার অভাব এবং সঠিক নির্ণয়ে দেরি নারীদের মধ্যে হতাশা ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বাড়ায়। অনেক নারী তাদের ব্যথাকে স্বাভাবিক মনে করে লুকিয়ে রাখেন, যা মানসিক চাপকে আরও তীব্র করে।
এন্ডোমেট্রিওসিস-অ্যাডেনোমায়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (EASB) সম্প্রতি একটি সাপোর্ট গ্রুপ প্রোগ্রাম চালু করেছে, যেখানে নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। এই প্রোগ্রামে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে কাউন্সেলিং সেশন অন্তর্ভুক্ত, যা নারীদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করছে। ঢাকার একটি সাম্প্রতিক সেমিনারে, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীদের জন্য মাইন্ডফুলনেস এবং কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) অত্যন্ত কার্যকর। এই থেরাপি মানসিক চাপ কমাতে ৩০% পর্যন্ত সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
পরিবার ও সমাজের সমর্থন এই রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে, যেখানে নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা এখনও ট্যাবু, পরিবারের সদস্যদের সচেতনতা বাড়ানো দরকার। EASB-এর একটি নতুন উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মশালা চালু করা হয়েছে, যেখানে তারা এন্ডোমেট্রিওসিসের মানসিক প্রভাব সম্পর্কে শিখছেন। সামাজিক মাধ্যমে #EndoMentalHealthBD ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তরুণীরা তাদের গল্প শেয়ার করছেন, যা অন্যদেরকে সাহস জোগাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এন্ডোমেট্রিওসিসের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বহুমুখী পদ্ধতি প্রয়োজন। নিয়মিত কাউন্সেলিং, সাপোর্ট গ্রুপ এবং পরিবারের সহযোগিতা নারীদের জীবনমান উন্নত করতে পারে। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রসার এবং সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এন্ডোমেট্রিওসিসের মানসিক প্রভাব কমানো সম্ভব।
