x
d o c t o r s 2 4
15 Aug

স্তন ক্যান্সার প্রধানত স্তনের কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে হয় এবং এটি নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও প্রভাবিত করতে পারে। যদিও পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি বিরল, তবে সঠিক সময়ে সনাক্তকরণ ও চিকিৎসার অভাবে এটি মারাত্মক হতে পারে। এই নিবন্ধে আমরা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

স্তন ক্যান্সার কী?

স্তন ক্যান্সার হল এমন একটি রোগ, যেখানে স্তনের কোষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে বৃদ্ধি পায়। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যা নির্ভর করে কোন ধরনের কোষ ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয় তার উপর। নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও, পুরুষদের মধ্যেও এই রোগ হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত ৬০-৭০ বছর বয়সে বেশি দেখা যায়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হলে এটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি

অনেকে মনে করেন স্তন ক্যান্সার শুধু নারীদের রোগ, কিন্তু পুরুষদেরও এই রোগের ঝুঁকি রয়েছে। যদিও এটি বিরল (প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে ১ জন পুরুষ), তবুও এটি উপেক্ষা করা যায় না। পুরুষদের ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবের কারণে রোগটি প্রায়শই উন্নত পর্যায়ে ধরা পড়ে। নিম্নলিখিত কারণগুলো পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়:

বয়স

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। পুরুষদের ক্ষেত্রে গড় নির্ণয়ের বয়স প্রায় ৬৮ বছর।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। স্থূলতা, হরমোন থেরাপি, বা কিছু ওষুধ ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন

অতিরিক্ত অ্যালকোহল লিভারের ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হ্রাস করে, যা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

লিভারের রোগ

লিভারের রোগ, যেমন সিরোসিস, অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা কমায় এবং ইস্ট্রোজেন বাড়ায়। এটি গাইনোকোমাস্টিয়া (স্তনের টিস্যু বৃদ্ধি) এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম

এই জিনগত অবস্থায় পুরুষদের ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি এবং অ্যান্ড্রোজেন কম থাকে, যা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

পারিবারিক ইতিহাস

যদি পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, বিশেষ করে পুরুষ সদস্যদের মধ্যে, তবে ঝুঁকি বেশি। BRCA1 এবং BRCA2 জিনের মিউটেশনও এই ঝুঁকি বাড়ায়।

বিকিরণ এক্সপোজার

লিম্ফোমা, হাড়ের টিউমার, বা অন্যান্য চিকিৎসার জন্য বুকের অঞ্চলে বিকিরণ গ্রহণ করলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ

পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ হল:

  • স্তনে বা বগলের কাছে পিণ্ড বা শক্ত গাঁট।
  • স্তনের ত্বকের পরিবর্তন, যেমন লালভাব, কুঁচকানো, বা খোসা ওঠা।
  • স্তনবৃন্ত থেকে নিঃসরণ বা বৃন্তের ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
  • স্তনে ব্যথা বা অস্বস্তি।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং এর ঝুঁকি কমাতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করুন এবং অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • পুরুষদের জন্য ম্যামোগ্রাফি বা আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে স্তন পরীক্ষা করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা
  • স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • অ্যালকোহল সেবন সীমিত করুন এবং ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
  • ফল, শাকসবজি, এবং পুরো শস্য সমৃদ্ধ খাবার খান।
জিনগত ঝুঁকি পরীক্ষা
  • যদি পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তবে জিনগত পরীক্ষা (BRCA মিউটেশন) করান।
  • প্রয়োজনে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন
  • স্তন ক্যান্সার নির্ণয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কাউন্সেলিং বা সাপোর্ট গ্রুপে যোগ দিন।
  • পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন।

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Leave A Comment