x
d o c t o r s 2 4
06 Jul

বায়ু দূষণ শুধু ফুসফুসের জন্যই নয়, শিশুদের ত্বকের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যানজটের কারণে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাস ও দূষণ শিশুদের মধ্যে এটোপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এই রোগের ফলে ত্বকে চুলকানি, শুষ্কতা এবং লালভাব দেখা দেয়, যা শিশুদের জীবনযাত্রার মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

কলোরাডোতে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাইওয়ে থেকে ১০০০ মিটার দূরে বসবাসকারী শিশুদের তুলনায় ৫০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের এটোপিক ডার্মাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যানজট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এবং কণা পদার্থের (পিএম ২.৫) মতো দূষক ত্বকের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়, যা শিশুদের এই রোগের ঝুঁকিতে ফেলে।

এটোপিক ডার্মাটাইটিস কী এবং কেন এটি উদ্বেগজনক?

এটোপিক ডার্মাটাইটিস হলো ত্বকের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা প্রায়ই শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। এটি ত্বকে শুষ্কতা, লালচে দাগ এবং তীব্র চুলকানির কারণ হয়। এই রোগকে “এটোপিক মার্চ” বলা হয় কারণ এটি অন্যান্য অ্যালার্জি যেমন অ্যাজমা বা খাদ্য অ্যালার্জির পথ তৈরি করতে পারে।

লক্ষণগুলো কী কী?

  • ত্বকে তীব্র চুলকানি, বিশেষ করে রাতে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
  • ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ এবং লালচে হয়ে যাওয়া।
  • নবজাতকদের মুখ, মাথা, বাহু ও পায়ে ছোট ছোট ছোপের মতো দাগ।
  • শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের কনুই, গোড়ালি বা হাঁটুর পিছনে চুলকানিযুক্ত শুষ্ক প্যাচ।
  • চুলকানির কারণে ত্বক ফেটে যাওয়া বা রক্তপাত।

বায়ু দূষণের ভয়াবহ প্রভাব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বায়ু দূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৬.৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে বায়ু দূষণ শুধু শ্বাসকষ্টই নয়, ত্বকের রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। যানজট থেকে নির্গত কণা পদার্থ ত্বকের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা একজিমার মতো রোগকে আরও তীব্র করে।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটোপিক ডার্মাটাইটিস ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে এটি দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:

  • ত্বককে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ করা।
  • চিকিৎসকের পরামর্শে স্টেরয়ড ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার।
  • দূষণের সংস্পর্শ কমাতে মাস্ক ব্যবহার বা দূষিত এলাকা এড়িয়ে চলা।
  • ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল এড়ানো।

 

Leave A Comment