ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস (Bacterial Vaginosis বা BV) নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু অবহেলিত যোনি সংক্রমণগুলোর একটি। এটি কোনো নির্দিষ্ট যৌনবাহিত রোগ না হলেও যৌন আচরণ, হরমোনের পরিবর্তন ও যোনির স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, BV পুরোপুরি প্রকাশ পাওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে, যা অনেক নারী সাধারণ স্রাব বা সাময়িক অস্বস্তি ভেবে উপেক্ষা করেন। অথচ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
নিচে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিসের ১ সপ্তাহ আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. যোনি স্রাবের গন্ধে হঠাৎ পরিবর্তন
BV-এর সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো ‘মাছের মতো’ তীব্র গন্ধযুক্ত স্রাব। তবে সংক্রমণ পুরোপুরি শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই অনেক ক্ষেত্রে স্রাবের গন্ধে হালকা কিন্তু অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে সহবাসের পর এই গন্ধ বেশি টের পাওয়া যায়। এটি যোনির উপকারী ল্যাক্টোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া কমে যাওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত।
২. স্রাবের রং ও ঘনত্বে পরিবর্তন
স্বাভাবিক যোনি স্রাব সাধারণত স্বচ্ছ বা হালকা সাদা এবং আঠালো নয়। কিন্তু BV-এর আগাম পর্যায়ে স্রাব পাতলা হয়ে যায় এবং রং হালকা ধূসর বা সাদাটে হতে পারে। অনেক নারী এটিকে স্বাভাবিক হরমোনজনিত পরিবর্তন মনে করে গুরুত্ব দেন না, যা পরে সংক্রমণকে আরও বাড়তে সাহায্য করে।
৩. যোনিতে হালকা চুলকানি বা জ্বালাপোড়া
সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই যোনির ভেতরের pH ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকে। এর ফলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং হালকা চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি দেখা দেয়। এটি সাধারণত তীব্র নয়, তাই অনেকেই উপেক্ষা করেন। তবে এই লক্ষণ BV-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব নিশ্চিত সংকেত।
৪. প্রস্রাব বা সহবাসের সময় অস্বস্তি
BV-এর এক সপ্তাহ আগে কিছু নারীর ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সময় হালকা জ্বালা বা সহবাসের সময় অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। কারণ, যোনির অভ্যন্তরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়তে শুরু করলে আশপাশের টিস্যুতে হালকা প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এই উপসর্গ অনেক সময় ইউরিন ইনফেকশন বা সাময়িক শুষ্কতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়।
কেন ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস ঝুঁকিপূর্ণ
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা না করালে BV নারীদের পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID), গর্ভাবস্থায় অকাল প্রসব এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ (যেমন ক্লামিডিয়া বা এইচআইভি) হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—BV থাকলে যোনির প্রাকৃতিক প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ভবিষ্যতে সংক্রমণ বারবার ফিরে আসার প্রবণতা তৈরি হয়।
করণীয় ও প্রতিরোধের উপায়
যোনি পরিষ্কারে অতিরিক্ত সাবান বা ডুচিং ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, নিরাপদ যৌনাচার অনুসরণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এড়ানো BV প্রতিরোধে সহায়ক। উপরের লক্ষণগুলো কয়েক দিন স্থায়ী হলে গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি।
