x
d o c t o r s 2 4
ভিটামিন ই-এর ঘাটতিতে শরীর যে সব ক্ষতির সম্মুখীন হয়
22 Feb

ভিটামিন ই (Vitamin E) শরীরের জন্য একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন, যা লিভারে দীর্ঘসময় জমা থাকতে পারে। এ কারণেই এর ঘাটতি হুট করে ধরা পড়ে না। যখন শরীরে ভিটামিন ই-এর সঞ্চয় ফুরিয়ে আসতে শুরু করে, তখন প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই শরীর অত্যন্ত সূক্ষ্ম কিছু সংকেত দিতে থাকে।

আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্নায়ুর সুরক্ষায় ভিটামিন ই-এর ভূমিকা অপরিসীম। পুষ্টিবিদদের মতে, এই ভিটামিনের অভাব সরাসরি স্নায়ুতন্ত্র ও পেশির ওপর প্রভাব ফেলে। তবে এর অভাব মারাত্মক আকার ধারণ করার অন্তত মাস ছয়েক আগে থেকেই শরীর কিছু নীরব সংকেত দিতে শুরু করে। সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় ধরনের স্নায়বিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

ভিটামিন ই ঘাটতির ৬ মাস আগে যে ৭টি লক্ষণ দেখা দেয়:

১. হাত ও পায়ের আঙ্গুলে ঝিনঝিন করা (Numbness)

এটি ভিটামিন ই ঘাটতির অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। ভিটামিন ই স্নায়ুর চারপাশের সুরক্ষামূলক আবরণ (Myelin sheath) বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর অভাব শুরু হলে স্নায়ু সংকেত পাঠাতে বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে হাত বা পায়ের আঙ্গুলে অকারণে ঝিনঝিন বা অসাড়তা অনুভূত হয়।

২. পেশির ব্যাখ্যাতীত দুর্বলতা (Muscle Weakness)

কোনো ভারী কাজ না করেও যদি আপনি অনুভব করেন যে আপনার পেশিগুলো আগের মতো শক্তি পাচ্ছে না, তবে এটি ভিটামিন ই-এর অভাব হতে পারে। এই ভিটামিন পেশির অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এর ঘাটতি শুরু হলে পেশির কোষগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে, যা এক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে।

৩. শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা (Ataxia)

আপনি কি খেয়াল করছেন যে হাঁটতে গিয়ে সামান্য টাল খাচ্ছেন বা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আগের মতো আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন না? ভিটামিন ই-এর অভাব মস্তিষ্কের সেই অংশকে প্রভাবিত করে যা শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এই লক্ষণটি খুব ধীরগতিতে প্রকাশ পায়।

৪. দৃষ্টিশক্তি সামান্য ঝাপসা হওয়া (Vision Changes)

চোখের রেটিনার সুরক্ষায় ভিটামিন ই কাজ করে। এর মাত্রা কমতে থাকলে উজ্জ্বল আলোতে বা কম আলোতে দেখতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। ৬ মাস আগে থেকেই চোখের পাওয়ারে সাময়িক তারতম্য বা চোখ ক্লান্ত বোধ করার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

৫. বারবার ঠান্ডা বা জ্বরে আক্রান্ত হওয়া (Weakened Immunity)

ভিটামিন ই শ্বেত রক্তকণিকাকে শক্তিশালী করে। এর ঘাটতি শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে আপনি লক্ষ্য করবেন যে আপনি সহজেই ভাইরাল ইনফেকশন বা সাধারণ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং তা সারতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে।

৬. ত্বকের অস্বাভাবিক রুক্ষতা ও অকাল বার্ধক্য (Dry Skin)

ভিটামিন ই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। শরীরে এর ঘাটতি দেখা দিলে ত্বক ফাটতে শুরু করে এবং অল্প বয়সেই কপালে বা চোখের কোণে সূক্ষ্ম বলিরেখা দেখা দিতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে যদি ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের পরেও ত্বক শুষ্ক লাগে, তবে সচেতন হওয়া জরুরি।

৭. ক্ষতের নিরাময় দেরি হওয়া (Slow Wound Healing)

শরীরের কোনো স্থানে সামান্য কেটে গেলে বা ছড়ে গেলে তা যদি সহজে না শুকায়, তবে বুঝতে হবে কোষে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব রয়েছে। ভিটামিন ই কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে, তাই এর অভাবে ঘা শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগে।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

যাদের পরিপাকতন্ত্র চর্বি শোষণে অক্ষম (যেমন ক্রোনস ডিজিজ বা সিস্টিক ফাইব্রোসিস), তাদের এই ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া যারা দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত লো-ফ্যাট ডায়েট অনুসরণ করেন, তাদের শরীরেও ভিটামিন ই-এর অভাব দেখা দিতে পারে।

প্রাকৃতিক সমাধানে যা খাবেন

ভিটামিন ই-এর ঘাটতি মেটাতে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক উৎস বেশি কার্যকর। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন:

  • কাঠবাদাম ও চিনাবাদাম।

  • সূর্যমুখীর বীজ।

  • পালং শাক ও ব্রকলি।

  • উদ্ভিজ্জ তেল (যেমন অলিভ অয়েল বা রাইস ব্র্যান অয়েল)।

 

Leave A Comment