x
d o c t o r s 2 4
31 Dec

মেনোপজ নারীজীবনের একটি স্বাভাবিক পর্যায়, যা ঋতুস্রাবের সমাপ্তি ঘোষণা করে। কিন্তু এর আগমন শান্ত নয়—পেরিমেনোপজ নামক স্থানান্তরকালীন সময়ে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়, যা কখনো কখনো ব্যথা বা অস্বস্তির রূপ নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, গড়ে ৫১ বছর বয়সে মেনোপজ হয়, কিন্তু পেরিমেনোপজ ৪-৮ বছর আগে শুরু হতে পারে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মেনোপজের ৬ মাস আগে কিছু লক্ষণ তীব্রতর হয়ে ওঠে, যা উপেক্ষা করলে জীবনমান প্রভাবিত হয়। ২০২৫ সালের একটি নতুন গবেষণায় (নেচার জার্নালে প্রকাশিত) উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০-৪৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪০% এরও বেশি পেরিমেনোপজের লক্ষণ অনুভব করেন, যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি। এই লক্ষণগুলো চিনে রাখলে সময়মতো চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।

মেনোপজ ও পেরিমেনোপজ কী এবং কেন হয়?

মেনোপজ হলো ১২ মাস ধরে ঋতুস্রাব না হওয়ার পর্যায়, যা ওভারির হরমোন উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে ঘটে। পেরিমেনোপজ এর আগের সময়, যখন ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা অস্থির হয়ে ওঠে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, এটি ৩০-এর শেষ বা ৪০-এর শুরুতে দেখা দিতে পারে এবং ৫-১০ বছর স্থায়ী হয়। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, পরিবারের ইতিহাস বা অটোইমিউন রোগ।

২০২৫-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০-৩৫ বছর বয়সী নারীদের ৫৫% মাঝারি থেকে গুরুতর লক্ষণ অনুভব করেন, যা আগের অনুমানের চেয়ে উচ্চ। এটি হরমোনের অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত হয়, যা হাড়ের ঘনত্ব কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

৬ মাস আগে দেখা দেয় যে ৫টি প্রধান লক্ষণ

মেনোপজের কাছাকাছি সময়ে (প্রায় ৬ মাস আগে) লক্ষণগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে শেষ পেরিমেনোপজ পর্যায়ে। ফ্রান্সিসকান হেলথের মতে, প্রথম লক্ষণ ঋতুস্রাবের পরিবর্তন, কিন্তু পরবর্তীতে অন্যান্য উপসর্গ যোগ হয়। নেচারের গবেষণা থেকে নির্বাচিত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ নিম্নরূপ:

ঋতুস্রাবের অনিয়মিততা: মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য ৭ দিনের বেশি কম-বেশি হওয়া বা রক্তস্রাবের পরিমাণ পরিবর্তন। এটি প্রথম লক্ষণ, যা মেনোপজের ৬ মাস আগে তীব্র হয় এবং ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিতি নির্দেশ করে।

হট ফ্ল্যাশ বা হঠাৎ গরম লাগা: শরীরে আচমকা তাপের ঢেউ, যা ঘাম এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি পেরিমেনোপজের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত (লগ অডস ০.৮১) এবং ৩৫-৫০% নারী এটি অনুভব করেন।

যোনিশুষ্কতা এবং যৌনক্রিয়ায় অস্বস্তি: যোনিতে শুষ্কতা বা প্রবেশকালীন ব্যথা, যা ইস্ট্রোজেন কমার ফলে হয়। নতুন গবেষণায় এটি পেরিমেনোপজের একটি মূল লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত (লগ অডস ০.৬১)।

হার্ট পালপিটেশন বা হৃদস্পন্দনের অনিয়ম: হঠাৎ হৃদয়ের ধড়ধড়ানি, যা উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ২০২৫-এর গবেষণায় এটি পেরিমেনোপজের সঙ্গে যুক্ত (লগ অডস ০.৪৫), যা অনেক নারী উপেক্ষা করেন।

ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন: মূত্রত্যাগের তাগিদ বেড়ে যাওয়া, যা রাত্রে ঘুম ভাঙায়। এটি হরমোনাল পরিবর্তনের ফলে হয় এবং গবেষণায় লক্ষণ হিসেবে নিশ্চিত (লগ অডস ০.৪৪)।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০-৪৫ বছর বয়সী নারীদের ৩০% চিকিৎসা সাহায্য নেন, কিন্তু ৫৬+ বয়সীদের মধ্যে এটি ৫১%। প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—নিয়মিত ব্যায়াম, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য (ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ) এবং ধূমপান ত্যাগ—গুরুত্বপূর্ণ। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এইচআরটি) লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু ঝুঁকি বিবেচনা করতে হয়।

২০২৫-এর একটি অধ্যয়নে উল্লেখ, মেনোপজ রেটিং স্কেলে লক্ষণের তীব্রতা ৫১-৫৫ বছরে সর্বোচ্চ, কিন্তু তরুণীদের মধ্যেও উচ্চ। ভেষজ চিকিৎসা যেমন ব্ল্যাক কোহোশ বা সয়া আইসোফ্ল্যাভোনস লক্ষণ কমাতে পারে। নিয়মিত চেকআপ, যেমন হরমোন লেভেল টেস্ট, প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করে।

মেনোপজকে ভয় নয়, সচেতনতা দিয়ে স্বাগত জানান। কোনো লক্ষণ দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave A Comment