x
d o c t o r s 2 4
24 Dec

বাস, গাড়ি, ট্রেন বা নৌকাভ্রমণ—ভ্রমণ মানেই আনন্দ। কিন্তু অনেকের জন্য এই আনন্দের মাঝেই হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা অস্বস্তি এসে পুরো যাত্রাটাই কঠিন করে তোলে। একে আমরা সাধারণত মোশন সিকনেস বলি। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, এই সমস্যা যাত্রা শুরু হওয়ার পরই দেখা দেয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাস্তবে মোশন সিকনেসের প্রায় ১ ঘণ্টা আগেই শরীর কিছু স্পষ্ট ও উপেক্ষিত সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো চিনে ফেলতে পারলে আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সম্ভব।

মোশন সিকনেস কেন হয়?

মোশন সিকনেস মূলত চোখ, কান-এর ভেতরের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ (ইনার ইয়ার) ও মস্তিষ্কের মধ্যে তথ্যের অসামঞ্জস্যের কারণে হয়। চোখ যখন স্থির কিছু দেখে, কিন্তু শরীর নড়াচড়া অনুভব করে—তখন মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখা, খালি পেটে ভ্রমণ এবং পর্যাপ্ত পানি না পান করা মোশন সিকনেসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে।

লক্ষণ ১: অস্বাভাবিক ঘাম ও শরীর ঠান্ডা লাগা

মোশন সিকনেসের প্রায় এক ঘণ্টা আগে অনেকের হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম শুরু হয়। হাত-পা স্যাঁতসেঁতে লাগে, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম মনে হয়। নতুন তথ্য হলো—এটি আসলে স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া, যা মস্তিষ্কের অস্বস্তির প্রথম সংকেত হিসেবে দেখা দেয়।

লক্ষণ ২: হালকা মাথা ঝিমুনি ও ভারী ভাব

যাত্রা শুরুর আগেই বা শুরুর কিছুক্ষণ পর মাথা ঝিম ঝিম করা বা ভারী লাগা মোশন সিকনেসের আগাম ইঙ্গিত হতে পারে। এটি তীব্র মাথা ঘোরা নয়, বরং মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়ার মতো অনুভূতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পর্যায়ে চোখ বন্ধ করলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়, যা লক্ষণ শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন।

লক্ষণ ৩: লালা নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া ও মুখে অস্বস্তি

অনেকেই খেয়াল করেন না, কিন্তু মোশন সিকনেসের আগে মুখে অস্বাভাবিকভাবে লালা জমা শুরু হয়। এটি বমির আগাম প্রস্তুতি হিসেবে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। নতুন গবেষণায় বলা হচ্ছে, এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে বমির সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো যায়।

লক্ষণ ৪: মন খারাপ ও অকারণ অস্বস্তি

মোশন সিকনেসের আগে অনেকের মধ্যে দেখা যায় হঠাৎ বিরক্তি, অস্বস্তি বা মন খারাপ লাগা। কারণ, মস্তিষ্কের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অংশ যখন বিভ্রান্ত হয়, তখন আবেগ নিয়ন্ত্রণেও সাময়িক প্রভাব পড়ে। এই মানসিক পরিবর্তনকে অনেক সময় ক্লান্তি বা বিরক্তি বলে ভুল করা হয়।

নতুন তথ্য: কেন শিশু ও কিশোরদের ঝুঁকি বেশি?

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু ও কিশোরদের ইনার ইয়ার ও মস্তিষ্কের সমন্বয় ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় তারা মোশন সিকনেসে বেশি আক্রান্ত হয়। এছাড়া যাত্রার সময় মোবাইল বা ট্যাবলেটে ভিডিও দেখা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

আগেভাগে সতর্ক হলে কী করবেন?

  • যাত্রার আগে হালকা খাবার খান, খালি পেট এড়িয়ে চলুন
  • সামনে বা দূরের স্থির কোনো জায়গায় তাকিয়ে থাকুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • সম্ভব হলে জানালার পাশে বসুন এবং তাজা বাতাস নিন

ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট হওয়ার আগেই শরীরের এই চারটি আগাম সংকেত চিনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটু সচেতনতা আর সঠিক প্রস্তুতিই মোশন সিকনেসকে বড় সমস্যা হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

Leave A Comment