x
d o c t o r s 2 4
16 Sep

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবিত করোনা প্রতিরোধী এমআরএনএ-ভিত্তিক টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব (পেটেন্ট) লাভ করেছে। স্বাধীনতার পর এটাই প্রথমবার যখন কোনো বাংলাদেশী টিকা বা ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব স্বীকৃতি পেলো।

গ্লোব ফার্মা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পেটেন্টের আবেদন জমা দিয়েছিল এবং ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট এটি অনুমোদিত হয়েছে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব বায়োটেকের প্রধান গবেষক ড. কাকন নাগ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি টিকার পেটেন্ট নয়, এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের দ্বার উন্মোচন।

গ্লোব বায়োটেক ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তখন থেকেই জিনভিত্তিক চিকিৎসা ও জটিল রোগের আধুনিক ওষুধ তৈরির গবেষণায় নিয়োজিত। করোনা মহামারির সময় ড. কাকন নাগ ও ড. নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে ‘বঙ্গভ্যাক্স’ তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে টিকার জেনেটিক কোড যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ন্যাচার সাময়িকীতে বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এলসেভিয়ারের ভ্যাকসিন সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। একই বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে কোভিড টিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

গ্লোব বায়োটেকের দাবি অনুসারে, ‘বঙ্গভ্যাক্স’ বিশ্বের একমাত্র এক-ডোজে কার্যকর এমআরএনএ টিকা, যা বিভিন্ন করোনা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে নিজস্ব উদ্ভাবিত ন্যানোটেকনোলজি প্ল্যাটফর্ম, যা ভবিষ্যতে এমআরএনএ ছাড়াও ডিএনএ, সাবইউনিট, ইনঅ্যাক্টিভেটেড বা রিকম্বিনেন্ট ভাইরাসভিত্তিক টিকা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করবে। পেটেন্টে মোট ৩০টি উদ্ভাবনী দাবি অনুমোদিত হয়েছে, যা প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ নতুন ও মৌলিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

টিকাটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বানরের ওপর সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। এই অর্জন বাংলাদেশের ওষুধশিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত গবেষণার পথ প্রশস্ত করবে।

গ্লোব বায়োটেক জানিয়েছে, এই সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের টিকা নির্ভরতা কমবে এবং স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ড. কাকন নাগ আরও বলেন, ‘বঙ্গভ্যাক্স’ শুধু করোনা নয়—ভবিষ্যতে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ, রক্তের জটিল অসুখসহ নানান কঠিন রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ উদ্ভাবনের পথ খুলে দেবে। এই অর্জন বাংলাদেশকে বিশ্বের বায়োটেকনোলজি মানচিত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

Leave A Comment