x
d o c t o r s 2 4
21 Oct
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের আক্রমণ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ। অনেক সময় এটি হঠাৎ করে ঘটে বলে মনে হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে শরীর প্রায় এক মাস আগে থেকেই কিছু সংকেত দেয়। এই লক্ষণগুলো চিনে নিলে সময়মতো চিকিত্সা নেয়া সম্ভব হয় এবং জীবন রক্ষা করা যায়। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিত্সা বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের আগে দেখা যায় এমন ৭টি প্রধান লক্ষণ নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।

হার্ট অ্যাটাক হয় যখন হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, যা করোনারি আর্টারি ডিজিজের কারণে ঘটে। এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। নারী এবং পুরুষদের মধ্যে লক্ষণগুলো কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো কম স্পষ্ট হয়। তাই এই লক্ষণগুলো উপেক্ষা না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

নিচে ৭টি প্রধান লক্ষণের তালিকা দেয়া হলো, যা হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে দেখা দিতে পারে:

  • বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি: এটি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। বুকে চাপ, ভারীতা, জ্বালাপোড়া বা টাইট অনুভূতি হতে পারে। এটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়ে যেতে পারে বা আসা-যাওয়া করতে পারে। অনেকে এটিকে হার্টবার্ন বলে ভুল করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৮% লোকের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দেখা যায়।
  • শ্বাসকষ্ট: কোনো কারণ ছাড়াই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রমের সময় বা বিশ্রামে। এটি হৃদপিণ্ডের দুর্বলতার সংকেত। নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি: হঠাৎ করে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা, যা সাধারণ কাজ করতে বাধা দেয়। এটি হৃদপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ৫০% এর বেশি দেখা যায়।
  • হৃদস্পন্দনের অনিয়ম (প্যালপিটেশন): হৃদয়ের ধড়ফড়ানি, দ্রুত স্পন্দন বা অনিয়মিত হার্টবিট অনুভব করা। এটি ৪২% লোকের ক্ষেত্রে দেখা যায় এবং হৃদয়ের অস্বাভাবিক ছন্দের সংকেত।
  • মাথা ঘোরা বা হালকা মাথাব্যথা: হঠাৎ করে মাথা ঘোরা বা দাঁড়াতে অসুবিধা হওয়া। এটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে ঘটে।
  • বমি বমি ভাব বা বমি: পেটের অস্বস্তি, হার্টবার্ন বা বমি হওয়া, যা খাবারের সাথে সম্পর্কিত নয়। নারীদের মধ্যে এটি সাধারণ।
  • অন্যান্য অংশে ব্যথা: বাহু, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা বা অস্বস্তি, যা বুকের সাথে যুক্ত। এটি বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের হার্ট অ্যাটাকের সতর্কতা লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণগুলো সবসময় হার্ট অ্যাটাকের সংকেত নয়, কিন্তু যদি একাধিক লক্ষণ দেখা যায় বা সেগুলো অস্বাভাবিক হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিত্সকের সাথে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে যাদের হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা ধূমপানের অভ্যাস আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।

প্রতিরোধের উপায় হিসেবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, ধূমপান ত্যাগ এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রাথমিক সতর্কতা নিলে ৮০% হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধযোগ্য।

Leave A Comment