x
d o c t o r s 2 4
31 Dec

ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্বকে অনেকেই হঠাৎ ধরা পড়া একটি সমস্যা বলে মনে করেন। বাস্তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা বলছে, এই অবস্থার কমপক্ষে ৬ মাস আগেই শরীর ধীরে ধীরে কিছু সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। নারী ও পুরুষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই এই লক্ষণগুলো আলাদা রূপে প্রকাশ পেতে পারে, কিন্তু সময়মতো সেগুলো শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।

প্রথম লক্ষণ হিসেবে ধরা হয় মাসিক চক্রের অনিয়ম বা ওভুলেশনের সমস্যা। নারীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ মাসিক দেরিতে হওয়া, খুব অল্প সময়ে শেষ হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত রক্তপাত দেখা দিলে তা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত হতে পারে। ওভুলেশন নিয়মিত না হলে ডিম্বাণু পরিপক্ব হয় না, যা কয়েক মাসের মধ্যেই ইনফার্টিলিটির দিকে নিয়ে যেতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ সময় যৌন আগ্রহ ও বীর্যপাতের পরিমাণেও সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

দ্বিতীয় লক্ষণ হলো অকারণ ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস। খুব অল্প সময়ে ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া শরীরের মেটাবলিক সিস্টেমে সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও থাইরয়েডের গোলমাল নারী ও পুরুষ—উভয়ের প্রজনন হরমোনে প্রভাব ফেলে, যা ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ায়।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শক্তি কমে যাওয়া। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি শরীর অবসন্ন থাকে, কাজে মনোযোগ কমে যায় এবং সারাদিন ঝিমুনি ভাব থাকে, তাহলে তা টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন বা প্রোজেস্টেরনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। এই হরমোনগুলো প্রজনন ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

চতুর্থ লক্ষণ হলো যৌনস্বাস্থ্যের সূক্ষ্ম পরিবর্তন। পুরুষদের ক্ষেত্রে উত্থান দুর্বল হওয়া, বীর্যের ঘনত্ব কমে যাওয়া বা যৌন আগ্রহ হ্রাস পাওয়া দেখা যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে যোনি শুষ্কতা, সহবাসের সময় অস্বস্তি বা লিবিডো কমে যাওয়া লক্ষণীয় হয়। এসব পরিবর্তন অনেক সময় সাময়িক মনে হলেও, দীর্ঘদিন চললে তা ইনফার্টিলিটির পূর্বাভাস হতে পারে।

পঞ্চম লক্ষণ হিসেবে ধরা হয় ত্বক, চুল ও শরীরের গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। নারীদের মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানো, চুল পড়া বা ত্বকে ব্রণ বেড়ে যাওয়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে পেশির শক্তি কমে যাওয়া বা বুক ও পেটের চারপাশে মেদ জমা টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

ষষ্ঠ ও শেষ লক্ষণটি হলো মানসিক চাপ ও ঘুমের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা প্রজনন হরমোনের নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। ঘুমের ঘাটতি বা অনিয়মিত ঘুমও শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে—এ তথ্যটি সাম্প্রতিক গবেষণায় আরও জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

নতুন তথ্য হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এখন ইনফার্টিলিটি মূল্যায়নে শুধু প্রজনন অঙ্গ নয়, বরং গাট হেলথ, ভিটামিন ডি, আয়রন ও জিঙ্কের মাত্রাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ এগুলোর ঘাটতি প্রজনন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

তাই উপরোক্ত লক্ষণগুলোর একাধিক যদি টানা কয়েক মাস ধরে দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বন্ধ্যাত্ব হওয়ার আগেই অনেক সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave A Comment